Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিয়মিত ট্রেন লেটে অসন্তোষ আপ মেইন-বনগাঁর যাত্রীদের, ব্যস্ত সময়ে ‘নজর’ শিয়ালদহগামী লোকালে? ক্রসিং গেট বন্ধ না হওয়াকে দুষছে রেল

সকালে অফিস টাইমে শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো লাখো মানুষ ট্রেনে করে শহরে আসেন।

নিয়মিত ট্রেন লেটে অসন্তোষ আপ মেইন-বনগাঁর যাত্রীদের, ব্যস্ত সময়ে ‘নজর’ শিয়ালদহগামী লোকালে? ক্রসিং গেট বন্ধ না হওয়াকে দুষছে রেল
  • ৩১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকালে অফিস টাইমে শহরতলির বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখো লাখো মানুষ ট্রেনে করে শহরে আসেন। এই সময় শিয়ালদহমুখী ট্রেনগুলিতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে লোকাল ট্রেনগুলিকে প্রান্তিক স্টেশনে ঢোকাতে অতিসক্রিয় থাকে রেল। এক্ষেত্রে উল্টোদিকের অর্থাৎ শিয়ালদহ থেকে আপ লাইনের যাত্রীরা নিজেদের ‘উপেক্ষিত’ মনে করেন। তাঁদের অভিযোগ, ব্যস্ত সময়ে শিয়ালদহ থেকে মেইন কিংবা বনগাঁ লাইনের আপের ট্রেনগুলি ‘অবহেলার শিকার’। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রোজ আপের ট্রেনগুলি লাগাতার লেট করছে বলে যাত্রীদের দাবি। পেশাগত কিংবা জরুরি কাজে যাওয়া উল্টোপথের যাত্রীদের বক্তব্য, রেলে মেরামতি কাজের জন্য বছরখানেক আগে গাড়ি লেট হতো। কিন্তু সেই কাজ বহুদিন আগেই হয়ে গিয়েছে। যদিও ট্রেন লেটের ঘটনা অব্যাহত। অনেকের মতে, নতুন এসি লোকালকে জায়গা করে দেওয়ার জন্যই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তাঁরা। যদিও রেলের দাবি, মেইন ও বনগাঁ লাইন গিয়েছে কার্যত শহরের মাঝখান দিয়ে। সকাল-সন্ধ্যায় এই পথে অজস্র রেল গেট বন্ধ করা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ট্রেন লেট হচ্ছে।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে স্কুল শিক্ষিকা পারমিতা সরকার বলেন, আগে সওয়া ১০টা নাগাদ বিধাননগর রোড থেকে ট্রেনে উঠে ১৫ মিনিটের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে যেতাম। দেড় বছর ধরে সেই পথ যেতে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগছে। স্কুলে প্রতিদিন লেট করে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে সাতসকালে উঠে সাড়ে ৯টার ট্রেন ধরতে বাধ্য হচ্ছি। একই সুর শোনা গিয়েছে আরও এক যাত্রী রঞ্জন বসুর গলায়। তাঁর কথায়, এসি লোকালকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে, নন-এসি একাধিক লোকাল সময়সূচি অনুযায়ী চলতে পারছে না। তবে বিভিন্ন লেভেল ক্রশিংয়ে গেট বন্ধ করতে না পারার সমস্যার কথাও একাধিক যাত্রীদের গলায় শোনা যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় এলাকাগুলিতে পরিবহণ কাঠামো আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই বহু সময়েই যানজট হচ্ছে লেভেল ক্রশিংগুলিতে। এতেই গেট ফেলার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। ফলে লোকালগুলিকে মসৃণভাবে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এসি লোকালের জন্য নন-এসি গুরুত্ব পাচ্ছে না, এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে রেল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ব রেলের এক কর্তা বলেন, বিষয়টি এমন নয়। এসি লোকালে পর্যাপ্ত যাত্রী হচ্ছে। একটা বড় অংশের যাত্রী আরও একাধিক রুটে এসি ট্রেন চালু করার আবেদন জানিয়েছে। মূল বিষয় হল মেইন ও বনগাঁ লাইনে গুচ্ছ গুচ্ছ রেল গেট। সড়কপথের গাড়ি চালকরা বলপূর্বক রেল গেট বন্ধ করতে বাধা দেয়। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় রেল গেট যতক্ষণ না লক হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রেন সিগন্যাল সবুজ হয় না। স্বভাবতই ট্রেনগুলি মাঝপথে দাঁড়িয়ে যায়। এভাবে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে গেলে তার পিছনে থাকা পরপর গাড়িগুলি দাঁড়িয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলতে পারে না ট্রেনগুলি। গোটা বিষয়টি রেলের নিয়ন্ত্রণে নেই। সাধারণ পথচারী ও গাড়িচালকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওই রেলকর্তা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ