পত্রলেখা বিবাহিত জীবনের পাট চুকিয়ে আমেরিকা থেকে ফিরে এসেছে। পনেরো বছর পরে আবার সে তার প্রাণের চিলেকোঠায়। সারা বাড়িতে রঙের প্রলেপ পড়লেও ব্রাত্য রয়ে গিয়েছে ধূলো ধূসরিত চিলেকোঠাটা। এই এক চিলতে ঘর পত্রলেখার কাছে অনেক স্মৃতির আঁতুড়ঘর। পত্রলেখার উপস্থিতিতে তার কবিতাগুলি যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। দেওয়াল, বই, কবিতার পাণ্ডুলিপি ছুঁয়ে কৈশোরের স্মৃতির স্তরে পত্রলেখা যখন পরম মমতায় হাত বোলায় তখন তার ভাই এসে জানায় বাড়িটা বিক্রি হয়ে যাবে। আগামী কাল সইসাবুদ হবে। পত্রলেখার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার প্রতিক্রিয়া। অনেক যুক্তি, হিসেব-নিকেশ, দেনা পাওনার লম্বা ফিরিস্তি পত্রলেখাকে মানসিকভাবে আঘাত করে। তার এই চিলেকোঠা থাকবে না সেটা ভাবতেই পারছে না। শুধুমাত্র ভাইয়ের মুখ চেয়ে ইচ্ছের বিরুদ্ধে রাজি হয়। এদিকে ক্রেতা এস এন মুখোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছে, এই চিলেকোঠাতেই সইসাবুদ করবে। তা শুনে এক মানসিক অস্থিরতা লক্ষ করা যায় পত্রলেখার মধ্যে। এত জায়গা থাকতে চিলেকোঠা? কেন? বাগুইআটি সহজিয়া নাট্যসংস্থার প্রযোজনায় সম্প্রতি ‘এক চিলতে চিলেকোঠা’ নাটকটি মঞ্চস্থ হল গিরিশ মঞ্চে। প্রশান্ত সেনের রচনা ও নির্দেশনায় এই নাটকে দেখা যায় মানবিক মূল্যবোধের রসায়ন।



