Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিম্নচাপ সরল ঝাড়খণ্ডে, বাংলায় বৃষ্টির বিরাম আপাতত দু’দিনের

দক্ষিণবঙ্গের চারটি জেলাকে ভাসিয়ে দিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি বুধবার ঝাড়খণ্ডের উপর সরে গিয়েছে। আপাতত আগামী দিনদুয়েক দক্ষিণবঙ্গে এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বড় এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই।

নিম্নচাপ সরল ঝাড়খণ্ডে, বাংলায় বৃষ্টির বিরাম আপাতত দু’দিনের
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গের চারটি জেলাকে ভাসিয়ে দিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি বুধবার ঝাড়খণ্ডের উপর সরে গিয়েছে। আপাতত আগামী দিনদুয়েক দক্ষিণবঙ্গে এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বড় এলাকা জুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই। এইসময় বর্ষাকালীন স্বাভাবিক বৃষ্টিই চলবে। ২২ তারিখ দক্ষিণবঙ্গে এবং উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ২২-২৪ জুলাই বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার জন্য বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী সপ্তাহে ২৬-২৭ জুন নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে একথা জানানো হয়েছে। আপাতত ২৫ জুন উপকূলবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনা  ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। সম্ভাব্য নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করছে জুনের শেষে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা কতটা বাড়বে। 

Advertisement

এই দফার নিম্নচাপটির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের চার জেলা—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সর্বাধিক পরিমাণ (২৭০ মিমি) বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-২ ব্লকেও ২৬০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। ২০০ মিমি বা তার বেশি বৃষ্টি হলে তা ‘অত্যন্ত তীব্র’ মাপকাঠিতে পড়ে। বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার অনেকগুলি জায়গায় ২০০ মিমির বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বুধবারও বর্ধমান এবং  পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হয়। মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিতে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির অনেক নদীতে জলস্তর বেড়েছে। জলমগ্ন হয়েছে অনেক এলাকা। অনেকাংশে এলাকাভিত্তিক বন্যাপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 
তবে দামোদর অববাহিকায় বুধবার থেকে বৃষ্টি অনেকটা কমে যায়। পশ্চিম বর্ধমান ও সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে বৃহস্পতিবার থেকে ডিভিসির মাইথন-পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কমেছে। তবে বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও জেলার আধিকারিকদের বিপর্যয় পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ বর্ষা মরশুমে অতিবৃষ্টিতে যেকোনও সময় দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। 
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, নিম্নচাপটির গতিপ্রকৃতির জন্য পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি যে খুব বেশিমাত্রায় বৃষ্টি পাবে, সেটা পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল। সেটাই হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূল এলাকা থেকে নিম্নচাপটির কেন্দ্রস্থল হুগলি, বর্ধমান, বীরভূম হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে গিয়েছে। একটি মাঝারি শক্তির নিম্নচাপ বড় অংশ জুড়ে অবস্থান করে। নিম্নচাপটির কেন্দ্রস্থল যে এলাকা দিয়ে যায় তার থেকে কিছুটা দূরবর্তী জায়গায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। কারণ বায়ুপ্রবাহের গতিসহ আরও কিছু মাপকাঠির কারণে বেশি বৃষ্টি হয়। এসব কারণে বাংলায় পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ জেলা এবং ঝাড়খণ্ডের জামেশেদপুর, রাঁচি প্রভৃতি স্থানে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ