Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফিরে দেখা ১৭ এপ্রিল: ব্যোমকেশের হ্যারিসন রোডেই বসে প্রথম বিদ্যুৎ বাতি

ঘটনা আজ থেকে ১২৬ বছর আগের। দিন, ১৭ এপ্রিল। ১৮৯৯ সালে স্থায়ীভাবে বিদ্যুতের লাইন বসল কলকাতা শহরে

ফিরে দেখা ১৭ এপ্রিল: ব্যোমকেশের হ্যারিসন রোডেই বসে প্রথম বিদ্যুৎ বাতি
  • ১৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘটনা আজ থেকে ১২৬ বছর আগের। দিন, ১৭ এপ্রিল। ১৮৯৯ সালে স্থায়ীভাবে বিদ্যুতের লাইন বসল কলকাতা শহরে। প্রিন্সেপ ঘাটে প্রথম বিদ্যুত্ উত্পাদনের কাজ হয়। আর এখন যে রাস্তাটি মহাত্মা গান্ধী রোড, তখন তা হ্যারিসন রোড। সেই রাস্তাজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি বসল। তৎকালীন কলকাতায় হইহই কাণ্ড শুরু। 

Advertisement

তবে এদেশের মানুষের কাছে বিদ্যুত্ তখন একটু ভয়েরই বিষয়। ব্রিটিশদের ইচ্ছা, বিদ্যুত্ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে সে কাজ খুব একটা সহজ হল না। গ্যাস বাতির পক্ষে দাঁড়িয়ে পড়লেন বহু শহরবাসী। ১৯১৩ সালে বর্তমানে যেটি গুরুসদয় দত্ত রোড তখন সেটি বালিগঞ্জ স্টোর রোড। সেখানে আলোচনার একটি আসর বসে। বিদ্যুৎ বনাম গ্যাস বাতি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। শেষপর্যন্ত প্রতিযোগিতায় জয় তিলক আঁকা হয় বিজলির কপালে। বাঙালির কাছে হ্যারিসন রোড নামটি ব্যোমকেশের জন্য এমনিতেই বিখ্যাত। ইতিহাসবিদরা বলেন, প্রথমবার বিদ্যুতের আলো দিয়েছিল বলে ইতিহাসেও ঢুকে আছে এই রাস্তার নাম। 
বিজলিবাতি অনেক উজ্জ্বল ও খরচ কম। এই যুক্তিতে কলকাতায় বিদ্যুৎ প্রবেশ করল। শহরে শুরু হল ‘বিদ্যুৎ যুগ’। তবে কলকাতা এর আগে কিন্তু বিদ্যুতের আলো দেখে ফেলেছিল ১৮৭৯ সালেই। পি ডব্লু ফ্লিউরি অ্যান্ড কোম্পানি একটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিল। তার দু’বছর পর ম্যাকিনন অ্যান্ড ম্যাকেঞ্জি কোম্পানি গার্ডেনরিচে বৈদ্যুতিক আলো দেখায়। তারপর ১৮৮৫ সালে চিত্পুরের এক ধনী ব্যক্তির শোভাযাত্রায় বিদ্যুতের আলোর ব্যবহার হয়। ১৮৮৬ সালে কলকাতায় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনেও ব্যবহার হয়েছিল বৈদ্যুতিক আলো। কয়েকটি ব্রিটিশ কোম্পানি গোটা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। সেখান থেকেই শুরু হয় সিইএসসি। সে সময় সিইএসসি’র কাজকর্ম চলত লন্ডন থেকে। ১৮৯৮ সালে ব্যাঙ্ক অব বেঙ্গল ও বেঙ্গল ক্লাবে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুত্ সরবরাহ হয়।
এর পাশাপাশি ইতিহাসবিদরা জানান একটি মজার তথ্য। সেকালের কলকাতায় আলো নয়, পাখা চালানোর জন্যই বেশি চাহিদা ছিল বিদ্যুতের। বড়লোকদের বাড়িতে পাখা চালানোর জন্য লোক রাখা হতো। এছাড়াও ছোট কারখানা, সুতোর কলে তখন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। ১৯৭০ সালে সেই সিইএসসি কলকাতায় চলে আসে। সমস্যা শুরু হয় লোডশেডিংয়ের। সেই ‘কারেন্ট অফ’ দিন পেরিয়ে আজ স্মার্ট মিটারের দিনে প্রবেশ করেছে শহর। 
শোনা যায়, সেকালে প্রথম দিকে ইউনিট প্রতি এক টাকা ছিল বিদ্যুতের মূল্য। তারপর তা কমিয়ে এক পয়সা করা হয়। সেই ১২৬ বছরের ইতিহাস বেয়ে আজ মহাত্মা গান্ধী রোড আলোয় ঝলমল করে। আজও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, স্মার্ট মিটার চালু নিয়ে আন্দোলন হয়ে থাকে। যেরকম ১৯১৩ সালেও বিদ্যুৎ নিয়ে হয়েছিল। জিতে গিয়েছিল আধুনিক প্রযুক্তি। এই বাঙালিই ভয় দূর হটিয়ে আধুনিকতাকে আপন করে নিয়েছিল তখন। গ্যাস বাতি ছেড়ে কলকাতা কাছে টেনে নিয়েছিল বিদ্যুতের আলো। না হলে হয়ত আরও কিছু বছর পিছিয়ে থাকতে হতো কলকাতা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ