Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নেতাজি নগরে ফাঁকা বাড়ির তালা ভেঙে জমিয়ে খানাপিনা, ২ লক্ষের নগদ-গয়নার সঙ্গে চুরি সিলিন্ডারও, ধৃত ৩

গভীর রাতে নয়, সকাল দশটায়  সদর দরজার দরজা ভেঙে সোজা উপরে উঠে যায়।

নেতাজি নগরে ফাঁকা বাড়ির তালা ভেঙে জমিয়ে খানাপিনা, ২ লক্ষের নগদ-গয়নার সঙ্গে চুরি সিলিন্ডারও, ধৃত ৩
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ফাঁকা বাড়ি পেয়ে মহানন্দে ঢুকে পড়ে তিন চোর।  গভীর রাতে নয়, সকাল দশটায়  সদর দরজার দরজা ভেঙে সোজা উপরে উঠে যায়। বাড়িতে ঢুকে সেখানে থাকা শুকনো খাবার খেয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে নেয়। বিছানায় শুয়ে কিছুটা বিশ্রামও নেয় তিনজন। কারণ রাতে তো আবার বেরোতে হবে। কিছুক্ষণ হালকা ঘুমের পর চলে আলমারির চাবি খোঁজার পালা। বিছানার নীচ থেকে চাবি বের করে লকার খুলে সোনা ও রূপার অলঙ্কার নিয়ে ব্যাগে ভরে। সেখানে থাকা নগদও হাতায়।  চাহিদা অনুযায়ী জিনিস না মেলায় তারা ঠিক করে, বাড়ির কোনও কিছুই বাদ রাখা যাবে না। গয়না-টাকার সঙ্গেই বাড়িতে থাকা দুটি গ্যাস সিলিন্ডারও হাতায়। যাতে সেগুলি বিক্রি করে কিছু টাকা আসে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অপারেশন চালিয়ে ছোট ভ্যানে সমস্ত কিছু তুলে চম্পট দেয়। নেতাজি নগর থানার শ্রীকলোনির  বাড়িতে ফিরে চুরির ঘটনা জানতে পারেন গৃহকর্তা। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার।  চুরির মাল উদ্ধারের চেষ্টা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, নেতাজি নগরের শ্রীকলোনির বাসিন্দা সন্দীপন চৌধুরি পরিবার নিয়ে ১৫ সেপ্টম্বর সকালেই একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন । বাড়ি ফাঁকাই ছিল। সামনের দরজা তালা বন্ধ ছিল।  তাঁদের ফিরতে গভীর রাত হয়ে যায়। বাড়িতে এসে দেখেন, সামনের দরজার তালা ভাঙা। তা দেখেই গৃহকর্তার সন্দেহ হয়, কিছু একটা ঘটেছে।  ভিতরে ঢুকতেই দেখেন, বিছানা লণ্ডভণ্ড হয়ে রয়েছে। ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে শুকনো খাবার। আলমারি খুলতেই  চোখ কপালে ওঠে গৃহকর্তার। দেখা যায়, সেখানে থাকা সোনা ও রূপোর গয়নার কিছুই অবশিষ্ট নেই। আলমারিতে থাকা নগদ ১৯ হাজার টাকাও খোয়া গিয়েছে। এমনকী মোবাইলের চার্জারও নিয়ে গিয়েছে অভিযুক্তরা। সমস্ত ঘরের আলমারি খোলা হয়েছে। রান্নাঘরে ঢুকে দেখেন, সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফল কেটেছে দুষ্কৃতীরা। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে থালায় বেড়ে খাওয়া-দাওয়াও করেছে। দম্পতি আরও আশ্চর্য হন দুটি সিলিন্ডার না থাকায়। তাঁরা বুঝতে পারেন দুষ্কৃতীদের দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপর বাড়ির মালিক সন্দীপন চৌধুরি ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানান, নগদ ও সোনা-রূপার অলঙ্কার মিলিয়ে প্রায় দু’লক্ষ টাকার সামগ্রী  চুরি হয়েছে।
তদন্তে নেমে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, তিনজন ওই বাড়ি থেকে বের হচ্ছে। দুজনের কাছে রয়েছে সিলিন্ডার। লালবাজারের গোয়েন্দারা তিনজনকে চিহ্নিত করেন। জানা যায়, বিভিন্ন চুরির ঘটনায় এর আগেও তারা গ্রেপ্তার হয়েছে। তিন অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর জোগাড় করা হয়। জানা যায়, চুরির মোবাইল বিক্রি করতে তারা ৫ অক্টোবর গড়িয়া এলাকায় আসবে। সেইমতো গোয়েন্দা বিভাগের টিম ওই এলাকায় পৌঁছে রবিউল শেখ, আনন্দ মাইতি ও মহেশ সিংকে গ্রেফতার করে। তিনজনকে সোমবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে লিগ্যাল এডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, তাদের কাছ থেকে কিছু উদ্ধার হয়নি। ঘটনায় জড়িত প্রমাণ মেলেনি। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন  নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। আদালত সকলকে পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ