সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: গত কয়েকবছর ধরে কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুজো মণ্ডপগুলি থিমের মোড়কে মুড়ছে। শহর ছাড়িয়ে গ্রামগঞ্জে থিমের মণ্ডপ নতুন দিশা দেখাচ্ছে থিম মেকারদের। পুজোর কয়েক মাস আগে থেকে রাত জেগে কাজ করছে নতুন প্রজন্ম। তাঁদের পকেটেও ঢুকছে মোটা অঙ্কের টাকা। যদিও থিম মেকারদের আক্ষেপ, অনেক ক্ষেত্রেই চিরাচরিত থিমের পরিবর্তে একটু অন্য থিম হলেই সেটা দর্শনার্থীদের বোধগম্য হচ্ছে না। ফলে নতুন থিম করা নিয়েও সমস্যা হচ্ছে।
মহালয়ার দিন একাধিক পুজো মণ্ডপ উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপুজোর আঙিনায় পা রেখেছে হাওড়া গ্রামীণ জেলা। ইতিমধ্যে সাবেকিয়ানার পাশাপাশি থিমের মোড়কে সেজে উঠেছে একাধিক পুজো মণ্ডপ। কোথাও জীবনচক্র, আবার কোথাও সবুজ বাংলা, কোথাও দ্বিমাত্রিক আবার কোথাও আনন্দযজ্ঞ, কোথাও শক্তিস্থল আবার কোথাও আলোক স্পর্শে দেবী দশভুজা, কোথাও পুতুল ঘরে মহাশক্তি আবার কোথাও স্বপ্নের দেশে বন্দির বেশে। এক কথায় কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া গ্রামীণ জেলাতেও থিমের সাজে সেজে উঠেছে একাধিক পুজো মণ্ডপ। ফলে জেলায় থিম মেকারদের চাহিদা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও নতুন থিম তৈরি নিয়ে সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। থিম মেকারদের মতে, চিরাচরিত থিমের পরিবর্তে নতুন থিম হলে অনেক ক্ষেত্রে দর্শনার্থীরা থিমের মানে ঠিকমতো বুঝতে পারছেন না। মণ্ডপ দেখে তাই মন ভরছে না তাঁদের। বিশেষ করে রঙচঙে মণ্ডপ ছাড়া তাঁদের মন উঠছে না। ফলে পয়সা খরচ করে থিমের মণ্ডপ করার পরেও দর্শনার্থীদের মন না ভরায় দ্বিধায় পুজো উদ্যোক্তারাও।
বাগনানের বাসিন্দা থিম মেকার কৃশানু রায় গত নয় বছর ধরে থিমের মণ্ডপ তৈরি করছেন। তিনি এবার জেলার বিভিন্ন জায়গায় সাতটি থিমের মণ্ডপ তৈরি করছেন। মণ্ডপ সাজাতে তার সঙ্গে ২০ জন হাত লাগিয়েছেন। কৃশানু জানান, দিনের পর দিন থিমের চাহিদা বাড়ছে। তবে তাঁর আক্ষেপ, মণ্ডপে নতুন চিন্তাধারায় থিম ফুটিয়ে তোলা হলেও গ্রামাঞ্চলের দিকে অনেক ক্ষেত্রে থিমের মানে দর্শনার্থীরা বুঝতে পারছেন না। গত কয়েকবছর ধরে এটা একটা বড় সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে চিরাচরিত রাজবাড়ি, পাহাড়, মন্দিরের পরিবর্তে নতুন ভাবনা মণ্ডপে ফুটিয়ে তুললেই এই সমস্যা হচ্ছে।