নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও কলকাতা: দমদম স্টেশনে ঢোকার মুখে লাইনচ্যুত হল ডাউন বনগাঁ লোকাল। বুধবার দুপুরে শিয়ালদহগামী ট্রেনটির পিছনের বগির দু’টি চাকা রেললাইন থেকে নেমে যায়। প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যায় ভিড়ে ঠাসা ট্রেন। যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনের গতি কম থাকায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা হয়। তখনও অবশ্য কোনও যাত্রী জানতেন না, কী সীমাহীন ভোগান্তি অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য! কারণ, এই ঘটনার জন্য এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ডাউন লাইনে চূড়ান্ত যাত্রী দুর্ভোগ চলে। আপ লাইনেও ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। যদিও রেলের দাবি, খুব বেশি দুর্ভোগ হয়নি। তীব্র গরমে ট্র্যাকের অ্যালাইনমেন্টের সমস্যা থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে। সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বনগাঁ স্টেশন থেকে ছেড়েছিল ট্রেনটি। দুপুর ১২টা ১৫ নাগাদ ট্রেনটি দমদম স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকছিল। ট্রেনের বেশিরভাগ অংশ প্ল্যাটফর্মে ঢুকে যায়। পিছনের দিকের তিনটি বগি যখন ঢুকছিল, তখনই প্রবল ঝাঁকুনি শুরু হয়। পিছনের বগিতে থাকা বহু যাত্রী দমদম স্টেশনে নামার জন্য ততক্ষণে সিট ছেড়ে উঠে পড়েছেন। ঝাঁকুনিতে তাঁরা একে অন্যের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন। আতঙ্কে কেউ কেউ চিৎকার শুরু করে দেয়। বিপদ বুঝে চালক ট্রেন থামিয়ে দেন। বহু যাত্রী আতঙ্কে ট্রেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা। দেখা যায়, ট্রেনের শেষ বগির একেবারে পিছনের দুটি চাকা রেলওয়ে ট্র্যাক থেকে সরে গিয়েছে। প্রায় ৫০ মিটার মতো রেললাইনে ঘষটাতে ঘষটাতে সামনের দিকে এগিয়েছে বগিটি। অথচ, সেই বগির ছ’টি চাকা ট্র্যাকেই রয়েছে। রেলের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা লাইনচ্যুত দু’টি চাকা ট্র্যাকে তোলেন। বেলা ২টো ৫ মিনিট নাগাদ ফাঁকা ট্রেনটিকে দমদম স্টেশন থেকে রেল ইয়ার্ডের উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত রেলের যাত্রী সামসুর গাজি বলেন, ‘দমদমেই নামতাম। আচমকা ঝাঁকুনিতে আমি তো একজনের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম। ট্রেন থামতেই লাফিয়ে নেমে পড়ি। বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছি।’
যদিও রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ১২টা ১৫মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। ১টা ৩৫ মিনিট নাগাদ ট্রেনটি গন্তব্যে রওনা দেয়। দু’টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ডাউন লাইনে চার-পাঁচটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পর চলাচল করেছে। বাকি ট্রেন সঠিক সময়েই চলেছে। তবে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে রেলের দাবির তফাৎ রয়েছে। রেলওয়ে ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, গরমে ট্র্যাকের অ্যালাইমেন্টে কোনও সমস্যা থেকেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। কোচ রক্ষণাবেক্ষণে কোনও ত্রুটি থেকে গেলেও এমনটা হতে পারে। শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) রাজীব সাকসেনা বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’