নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: চড়া রোদ। তীব্র গরম। গোটা ট্রেনটাই যেন হট চেম্বার! এই অবস্থায় আধঘন্টার বেশি সময় ধরে ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে দমদম স্টেশনের আউটারে। আরও কয়েকজনের দেখাদেখি বসিরহাট লোকাল থেকে নেমে পড়েছিলেন মধ্যমগ্রামের গৃহবধূ শ্রাবণী দত্ত। একরত্তি ছেলেকে কোলে নিয়ে তপ্ত রেললাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে তাঁর সানস্ট্রোক হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনওমতে দমদম স্টেশনে পৌঁছে বসে পড়লেন ফ্যানের নীচে। চোখ-মুখ লাল হয়ে গিয়েছে। কোলের শিশু কেঁদেই চলেছে। প্ল্যাটফর্মের লোকজনই জল ছিটিয়ে দিলেন শ্রাবণীদেবীর চোখেমুখে। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে বসে থাকার পর কিছুটা ধাতস্থ হলেন তিনি। গন্তব্যে যাওয়ার আগে বলে গেলেন, ‘আগের জন্মের পুণ্য ছিল হয়তো, তাই এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম।’
বুধবার দুপুরে ডাউন বনগাঁ লোকাল দমদম স্টেশনে লাইনচ্যুত হওয়ায় ডাউনে বনগাঁ ও বসিরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। মধ্যমগ্রাম স্টেশন থেকে একের পর এক শিয়ালদহগামী ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়ে। বেলা ১২টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই বিভ্রাটের জেরে রেলযাত্রীরা নিদারুণ দুর্ভোগে পড়েন। বিভিন্ন স্টেশন ও আউটারে ট্রেন ঘণ্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে। বিশরপাড়া, কোদালিয়া, বিরাটি, দুর্গানগর, দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে যাত্রীদের চূড়ান্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। বহু মানুষ ট্রেন থেকে নেমে অটো, টোটোয় চেপে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ আবার তপ্ত দুপুরে ট্রেনের মধ্যে বসে থেকে নির্ধারিত সময়ের দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর গন্তব্যে পৌঁছন। তবে দমদম স্টেশনের আউটারে অর্থাৎ স্টেশনের অদূরে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ, মাঝপথে ট্রেন দাঁড়িয়ে যাওয়ায় অনেকে পানীয় জলও পাচ্ছিলেন না। গরম থেকে বাঁচতে অনেকে ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। আর তা করতে গিয়েই বহু যাত্রী অসুস্থ বোধ করেন। দমদম আউটার থেকে হেঁটে স্টেশনে ফিরছিলেন বারাসতের বাসিন্দা তীর্থঙ্কর দত্ত। বললেন, ‘৩০ বছর এই লাইনে যাতায়াত করছি। বহু ঘটনার সাক্ষী। কিন্তু এত কষ্ট কখনও হয়নি।’