নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মধ্যমগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় লাগোয়া এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনার প্রশ্নের মুখে পড়ল পুলিসি নজরদারি। কীভাবে রেলস্টেশন কাছে ব্যস্ত এলাকায় এমন বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়দের একাংশ। কীভাবে এক মাঝবয়সি যুবক গভীর রাতে একা দীর্ঘক্ষণ সেখানে বসে রইলেন, অথচ পুলিস-প্রশাসনের নজরে এল না বা কোনও সন্দেহ হল না কেন—এমন একাধিক প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পর পুলিসের তরফে নজরদারি আরও বাড়ানোর ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে মধ্যমগ্রাম পুরসভা।
রবিবার মধ্যরাতে মধ্যমগ্রামে বিস্ফোরণে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে উত্তরপ্রদেশের যুবক সচিদানন্দ মিশ্র। সে নিজেই বিস্ফোরক নিয়ে সেখানে বসেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এলাকাটি মধ্যমগ্রাম শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। কারণ, কিছুটা দূরেই রয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর। অন্য দিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সদর শহর বারাসত। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা এগলেই মধ্যমগ্রাম চৌমাথা। জাতীয় সড়ক পেরিয়ে গেলেই রয়েছে সেনা ছাউনি। এমন একটি এলাকাকে নাশকতার জন্য টার্গেট করতে পারে দুষ্কৃতীরা। সেই আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সেই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণস্থলের রাস্তায় রাতে সেই অর্থে কোনও পুলিসি টহল বা নজরদারি থাকে না।
তবে এই বিস্ফোরণের পর কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসেছে পুলিস। সিরাজ মুন্সি নামে এক ব্যবসায়ীর দাবি, ‘রাত হলে পুলিসের দেখা পাওয়া যায় না। রাত বাড়লে ব্রিজের তলায় কী কারবার চলে, সবাই জানে। আমরা চাই, মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে পুলিস একটু সক্রিয় হোক।’ পুলিস সূত্রে খবর, ঘটনার পর গোটা এলাকায় বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। পুলিসি টহলও আগের তুলনায় বাড়ানো হচ্ছে। সামনেই দুর্গাপুজো। সেই কথা মাথায় রেখেও বিশেষ নজরদারির কথা ভাবছে মধ্যমগ্রাম থানা।
নাগরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে এগিয়ে এসেছে মধ্যমগ্রাম পুরসভাও। একাধিক ‘স্পর্শকাতর’ জায়গাকে চিহ্নিত করে সিসি ক্যামেরা বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারই মধ্যমগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন ১০টি জায়গায় ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে স্টেশন এলাকায় ১০টি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। বাদু রোড, যশোর রোড এবং সোদপুর রোডেও আমরা অনেক ক্যামেরা বসাব।’
এদিকে, মঙ্গলবারই উত্তরপ্রদেশের বাস্তি থেকে মধ্যমগ্রামে এসে পৌঁছন বিস্ফোরণে মৃত যুবকের বাবা অশ্বিনী মিশ্র। তিনি জানান, তাঁর ছেলে হরিয়ানায় চাকরি করত। বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত না। কলকাতায় যে তার প্রেমিকা রয়েছে বা সে যে এখানে এসেছে, এসব কিছুই জানতেন না তিনি।