নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পঞ্চায়েত সদস্য বা কাউন্সিলার নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় গিয়ে ‘মাতব্বরি’ করছেন। ফলে, স্থানীয় নেতৃত্ব এতে তিতিবিরক্ত! বেশ কিছু জায়গা থেকে এই মর্মে অভিযোগ এসেছে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে। নেতাদের একাংশের বক্তব্য, এই ‘আগ্রাসী’ মনোভাব বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে জনমানসে। দলের নিচুতলার কর্মীদের দাবি, এই ‘কেউকেটা’ নেতাদের সম্পর্কে তৃণমূল নেতৃত্ব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এদিকে, তৃণমূলের এই দ্বন্দ্ব নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা।
কয়েকদিন আগে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। বিভিন্ন এলাকার মতো বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রের সংগঠন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি নেতাদের নিজ নিজ এলাকায় বাড়তি নজর দিতে বলেছেন। মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার পাশাপাশি দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কর্মসূচিও নিতে বলেছেন। কিন্তু, কে কার কথা শোনে! শীর্ষনেতাদের নির্দেশকে কার্যত পাত্তাই দেন না একাধিক ‘কেউকেটা’ নেতা। এমনই অভিযোগ দলের একাংশের। তাঁদের কথায়, নিজের এলাকায় নজর না দিয়ে পাশের ওয়ার্ড বা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অযথা ‘নাক গলান’ ওই নেতারা। দাপুটে কাউন্সিলারদের একাংশ তুলনামূলক কম ‘ওজনদার’ কাউন্সিলারদের ওয়ার্ডে গিয়ে দাপাদাপি করেন।
সব থেকে অবাক করার মতো বিষয় হল, বারাসত শহরের সিংহভাগ কাউন্সিলারের নিজস্ব কোনও অফিস নেই। ফলে সাধারণ মানুষ কোনও সমস্যা নিয়ে কোথায় যাবেন, তা ঠিক করতে পারেন না। বারাসত পুরসভা লাগোয়া বিভিন্ন পঞ্চায়েতের সদস্য বা নেতারা নিজের এলাকা ছেড়ে শহরাঞ্চলে ঢুকে দাপিয়ে বেড়ান। এর পিছনে কাউন্সিলারদের একাংশের মদতে রয়েছে বলে অভিযোগ। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের ওই নেতারা বিভিন্ন বিতর্কে জড়াচ্ছেন। এক নেতার কথায়, অনেক কাউন্সিলার পিছন থেকে অবৈধ কাজে মদত দেন। বেনামী সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তাঁরা। বিভিন্ন আত্মীয়র নামে সম্পত্তি কিনছেন। শেষমেশ ঘুরপথে ওই সম্পত্তি ভোগ করছেন তাঁরা। অন্যদিকে এক মহিলা নেত্রীর খেদ, বহিরাগত নেতাদের কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দল সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। দলের শীর্ষনেতারা বারে বারে নিচুতলার কর্মীদের সচেতন করলেও অনেক নেতা বা কাউন্সিলার সেই নির্দেশকে কার্যত পাত্তা দিচ্ছেন না। গ্রামাঞ্চলের নেতারা কেন শহরাঞ্চলে ঢুকে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, তার স্পষ্ট কোনও উত্তর নেই। এ নিয়ে আমরা শীর্ষস্তরে অভিযোগ জানাব। এ নিয়ে তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, বিষয়টি জানা নেই।
বিজেপি নেতা তাপস মিত্রের টিপ্পনি, আসলে তৃণমূলের নেতারা জানেন যে, তাঁদের লাগাম টানার কেউ নেই। তাই তাঁরা যথেচ্ছচার করে যাচ্ছেন। খোঁজ নিলে দেখবেন, তাঁদের পিছনে কোনও না কোনও দাদার ‘হাত’ আছে। আসল বিষয় হল কাটমানি।