ওয়াশিংটন: ট্রাম্প সুর নরম করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করতে তদ্বির শুরু করে দিল ভারত? এদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করলেন রাজনৈতিক লবিস্ট জেসন মিলার। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালানোর জন্য মিলারকে গত এপ্রিলে নিয়োগ করেছিল ভারত। তার জন্য বছরে এক লক্ষ ডলারের বেশি খরচ করা হচ্ছে। তবে মিলার কী কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একাধিক ছবি পোষ্ট করেছেন তিনি। তার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রশংসাও করেছেন। আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক-যুদ্ধের আবহে এই সাক্ষাৎ হওয়ায় ওই বিষয় নিয়েই দু’জনের আলোচনা হয়েছে বলে জল্পনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের মধ্যে ডামাডোল দেখা দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক করতে দুই দেশই সচেষ্ট। শনিবারই ট্রাম্প বলেছেন, ‘মনে হয়, ভারতকে আমরা বন্ধু হিসেবে হারিয়ে ফেলব না। মোদি তো তো আমার খুব প্রিয় বন্ধু। এই তো কয়েক মাস আগেই আমরা দু’জনে রোজগার্ডেনে একসঙ্গে হাঁটলাম। তাই চিন্তার কিছু নেই।’ পাল্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইতিবাচক আবেগ এবং ইন্দো-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে যা অবস্থান, সে ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ একমত। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।’ এই আবহে ট্রাম্পের সঙ্গে মিলারের দেখা করা বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক কে পি ফাবিয়ান দাবি করেছেন, ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে কোনও লাভ হবে না বুঝতে পেরেই সুর নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার তিনি জানান, প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক ও তারপরে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। আগ্রাসী মনোভাব নিলেও পরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, ওই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর পর যে ফলাফল তিনি আশা করেছিলেন, তা পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি ভেবেছিলেন, শুল্ক চাপানোয় ভারত আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হবে না বুঝেই সুর নরম করছেন।