Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৮ লক্ষের অলঙ্কার চুরি সাগরপাড়ার দু’টি সোনার দোকান থেকে

২৮ লক্ষের অলঙ্কার চুরি সাগরপাড়ার দু’টি সোনার দোকান থেকে
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: চলছে বিয়ের ভরা মরশুম। এই সময় সোনার দোকানে ভালোই বেচাকেনা বাড়ে। অনেকেই আগে থেকে দিয়ে থাকেন অর্ডার। ঠিক একইভাবে এলাকার একাধিক বিয়ের জন্য সোনার অলঙ্কারের অর্ডার ধরেছিলেন সাগরপাড়ার দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী। অনেকে অগ্রিম পেমেন্টও করে গিয়েছেন। আর দিন কয়েকের মধ্যেই সোনার গয়নাগুলি ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে দুঃসাহসিক চুরিতে তাঁদের মাথায় হাত পড়েছে। দু’টি দোকান থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপোর গয়না নিয়ে দুষ্কৃতীরা চম্পট দিয়েছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। তাঁরা পুলিসি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে চুরির কিনারায় নেমেছে সাগরপাড়া থানার পুলিস। যদিও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় পুলিস কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নরসিংহপুর পঞ্চায়েতের কাছে বাজারেই দু’টি সোনার দোকান রয়েছে। রাস্তার ধারেই দোকান রয়েছে দিব্য হালদারের। তাঁর পিছনেই মেরেকেটে ৩০মিটার দূরেই রয়েছে আশুতোষ রায়ের দোকান। তাঁদের বাড়ি সাগরপাড়াতেই। অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টা থেকে ১০টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে তাঁরা বাড়ি গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাতঃভ্রমণের সময় দিব্যবাবুর দোকানে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাঁরা দেখেন, শাটারের একদিকের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খুলে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ব্যবসায়ীকে বিষয়টি জানান। তিনি এসে দেখেন শাটার ভাঙা। জিনিসপত্র চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দোকানের ভল্ট কেটে ও ড্রয়ার ভেঙে চুরি গিয়েছে সমস্ত অলঙ্কার। ওই খবর শুনে আশুতোষবাবুও এসে দেখেন তাঁর দোকানেও ঠিক একই কায়দায় দুষ্কৃতীরা চুরি করেছে। তাঁর দোকানে সিসিটিভ লাগানো ছিল। দুষ্কৃতীরা অপারেশন চালানোর পর তার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে পালায়। ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কীভাবে তাঁরা বিয়ের গয়না ডেলিভারি দেবেন খুঁজে পাচ্ছেন না। 
চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে তারা দুষ্কৃতীদের চিহ্নিতকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এত বড় বাজারে সিসিটিভি থাকার পরেও এভাবে চুরির ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
আশুতোষবাবু বলেন, দোকানের মধ্যে প্রচুর সোনা, রুপোর গয়না ছিল। এখনও পর্যন্ত আমাদের পক্ষে পুরোপুরি সঠিকভাবে হিসেব করে না গেলেও প্রায় ২০লক্ষ টাকার গয়না খোয়া গিয়েছে। দোকানের শাটারের সঙ্গে সংযুক্ত তালা ছাড়াও শাটারে আরও দু’টি তালা লাগানো থাকত। সিসিটিভিও ছিল। এতকিছুর পরেও কীভাবে দুঃসাহসিক চুরি করল ভেবে পাচ্ছি না। পুলিস তদন্ত করে দেখুক। এভাবে চুরির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
দিব্যবাবু বলেন, আমার দোকান থেকে প্রায় আট লক্ষ টাকার গয়না চুরি গিয়েছে। এত সেফটি, সিকিউরিটি মেনে চলেও এভাবে বাজারে রাস্তার ধারে চুরি হচ্ছে। পুলিস তদন্ত করে আমাদের খোয়া যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করে দিক। নাহলে আমরা ভীষণ সমস্যায় পড়ব।
তদন্তকারী এক আধিকারিক বলেন, দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। খুব শীঘ্রই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ