Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১২ লক্ষকে ‘মমতার’ বাড়ি,  আগামী বছর পাবেন আরও ১৬ লক্ষ

১২ লক্ষকে ‘মমতার’ বাড়ি,  আগামী বছর পাবেন আরও ১৬ লক্ষ
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোদি সরকার কথা রাখেনি। বাংলার ১১ লক্ষ প্রান্তিক মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু বিগত তিন বছরে নানা অজুহাতে একটি টাকাও ছাড়েনি। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হয়েই রেড রোডের ধর্না মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি ছিল—‘ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্র অর্থবরাদ্দ না করলে, রাজ্যের কোষাগার থেকেই গরিব মানুষকে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হবে।’ সেই প্রতিশ্রুতি পালন করলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। ডিসেম্বরের ‘ডেডলাইন’ শেষ হওয়ার ১৩ দিন আগেই। মঙ্গলবার রাজ্যের ১২ লক্ষ মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা প্রদানের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্পূর্ণটাই রাজ্যের কোষাগার থেকে। তাই এই প্রকল্পের নামও তিনি রেখেছেন ‘বাংলার বাড়ি’। 
Advertisement
এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে প্রতীকীভাবে ৪২ জনের হাতে এই প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেন মমতা। তারপরই জেলায় জেলায় উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়ে যায়। এই পর্বে কেন্দ্রের আবাস তালিকার বঞ্চিতদের পাশাপাশি রয়েছে রেমাল ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় বাড়ি ক্ষতিগ্রস্তদের নামও। তবে ১২ লক্ষেই থেমে থাকবে না নবান্ন। যাচাই পর্বের শেষে পঞ্চায়েত দপ্তর যোগ্য প্রাপকদের যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে মোট ২৮ লক্ষের নাম রয়েছে। তাই বাকি ১৬ লক্ষ উপভোক্তাকেও রাজ্যই টাকা দেবে বলে এদিন ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দু’টি পর্যায়ে এঁদের টাকা দেওয়া হবে। আগামী বছরে ২৮ লক্ষ উপভোক্তাই টাকা পাবেন। এবার যাঁদের টাকা দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের বাদ দিলে বাকি থাকবে আর ১৬ লক্ষ। তাঁদের মধ্যে আট লক্ষ উপভোক্তা টাকা পাবেন আগামী মে-জুন মাসে। আর বাকি আট লক্ষ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে।’ 
পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার সহ অন্যান্য মন্ত্রী, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, পঞ্চায়েত সচিব পি উলগানাথানের উপস্থিতিতে এদিন বিকেলে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুদানের শংসাপত্রের পাশাপাশি একটি করে স্মারকও উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেন। মমতা বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। রাজ্য সরকার নিজের কোষাগার থেকে ১২ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে দিতে শুরু করল। এর জন্য রাজ্যের মোট ১৪ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা খরচ হবে। ৩৫ লক্ষের বেশি বাড়িতে স্বচ্ছভাবে সমীক্ষা চালিয়ে যোগ্য প্রাপকদের চিহ্নিত করেছে ২৭ হাজারের বেশি টিম। এই কাজের সঙ্গে জড়িত সকলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ 
এদিনও কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে গর্জে উঠেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘আবাস নিয়ে রাজ্যে ৬৯টি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েও, কোনও অনিয়ম পায়নি কেন্দ্র। তাও আবাসের টাকা দেওয়া হচ্ছে না। মোট ১ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে নিশ্চুপ মোদি সরকার। উল্টে সেসের অঙ্ক বাড়িয়েই চলেছে। নিজের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্য।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ