Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হস্টেলে মদের কাউন্টার! ভাইরাল ভিডিও, তোলপাড়, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল

টেবিলের উপর সাজানো নামিদামী ব্র্যান্ডের হুইস্কি, ভোদকার বোতল। নীচেও  বেশ কয়েকটা রাখা। সঙ্গে দু’চারটে থার্মোকলের পেটি

হস্টেলে মদের কাউন্টার! ভাইরাল ভিডিও, তোলপাড়, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: টেবিলের উপর সাজানো নামিদামী ব্র্যান্ডের হুইস্কি, ভোদকার বোতল। নীচেও  বেশ কয়েকটা রাখা। সঙ্গে দু’চারটে থার্মোকলের পেটি। একটি থেকে উঁকি মারছে বিয়ারের বোতল। তিন চারটি  ব্র্যান্ডের স্ট্রং বিয়ার। ঝলকে দেখলে মনে হবে, পুরোদস্তুর এফ এল শপের কাউন্টার। শুধু সাইন বোর্ডটাই নেই! ক্রেতারা যাচ্ছেন। টাকা দিয়ে মদ কিনছেন। কেউ কেউ আবার ঘরে ঢুকে কয়েক পেগ গলায় ঢেলেও নিচ্ছেন। ক্রেতারা সবাই বুদ্ধিদীপ্ত! সবাই ডাক্তারি পড়ুয়া। আর কিছুদিন বাদে সকলেই মহান পেশায় নাম লেখাবেন। ফলে, এতক্ষণ যেটাকে ‘এফ এল শপ’ বলে ভ্রম হচ্ছিল সাধারণ মানুষের, সেটা আসলে তা নয়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল। তার মধ্যেই চলছে দেদার মদের কারবার। ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ সামনে আসতেই তোলপাড়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।  

Advertisement

কিন্তু হস্টেলের ভিতর এভাবে মদ বিক্রি কেন? জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেদিনই বয়েজ হস্টলের একটি ঘরে অস্থায়ী ভাবে মদের দোকান খোলা হয়েছিল। যিনি মদ বিক্রি করছিলেন তিনি বাইরের লোক। বিশেষ শর্তে তাঁকে হস্টেলের মধ্যে মদ, বিয়ার বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়। এমএরপি’র থেকে দাম প্রায় দু’শো থেকে আড়াইশো টাকা বেশি দরে বোতল  বিক্রি হচ্ছিল। কেউই দরদাম করছেন না। বোতল হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁকা। দ্রব্যগুণে বেলাল্লাপনারও অভিযোগ উঠেছে। সেদিনের ভিডিও এখন ডাক্তারি পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের হাতে হাতে ঘুরছে। 
ঘটনাটির কথা শুনেছেন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঙ্গলবার বলেন, ‘ওই ভিডিওর কথা শুনেছি। এখনও দেখেনি। হাতে আসুক। তারপর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ এক আধিকারিক বলেন, ডাক্তারি পড়ুয়াদের এমন ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় কলেজের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
মেডিক্যাল কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বার্ষিক ফেস্ট মানেই ফূর্তির নির্যাস নিঙড়ে নেওয়া। প্রায় সব পড়ুয়ারাই খানিক বোহেমিয়ান হতে মন চায়। মদ পান করে টলমল পায়ে বিশৃঙ্খল নাচানাচি হবে। গুরুগম্ভীর আলোচনা হবে। এসব কালচার অনেক পুরোনো। তা বলে হস্টেলের ভিতর আস্ত মদের দোকান!  এটা মানতেই পারছেন না অনেক প্রাক্তনী। তাঁদের মতে এটা অনেক বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গিয়েছে। 
বর্ধমান শহরে মদের অভাব নেই। আগের অনুষ্ঠানগুলিতে দোকান থেকে মদ কিনে আনা হতো। কেউ কেউ আগে থেকে দু’ এক বোতল স্টক রেখে দিতেন। এবার হস্টেলের দুয়ারে কাউন্টার! অভিযোগ, ওই দিনের অনুষ্ঠানে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই অভয়া আন্দোলনে গলা ফাটিয়েছিলেন। ওই ভিডিও ফুটেজে তাঁদের এভাবে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছেন। সেই সময়ের আন্দোলনকারী নেতা মহম্মহ রিয়াজ উজ জামানকে ফোন করা হলেও তিনি তোলেননি। আর এক আন্দোলনকারীও ফোন ধরেননি। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেদিন ভোর পর্যন্ত মদ বিক্রি করা হয়েছিল। অস্থায়ী দোকান করার দায়িত্ব কয়েকজন নিয়েছিলেন। তাঁরা মোটা টাকা ফয়দা তুলেছেন বলে খবর। কিউআর কোডে বেশির ভাগ পেমেন্ট নেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ