Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় আমৃত্যু কারাবাসের সাজা

ধর্ষণের ফলে বছর চোদ্দোর নাবালিকার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় প্রতিবেশীকে আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দিল বর্ধমানের পকসো আদালত। এছাড়াও সাজাপ্রাপ্তকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নাবালিকা ধর্ষণের মামলায় আমৃত্যু কারাবাসের সাজা
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: ধর্ষণের ফলে বছর চোদ্দোর নাবালিকার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় প্রতিবেশীকে আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দিল বর্ধমানের পকসো আদালত। এছাড়াও সাজাপ্রাপ্তকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে আরও একবছর কারাবাস করতে হবে সাজাপ্রাপ্তকে। জরিমানার টাকা দিলে তা নির্যাতিতাকে তার হিতার্থে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন বিচারক। এছাড়াও পকসো আইনের বিধান অনুযায়ী নাবালিকার পুনর্বাসন ও তার কল্যাণের জন্য তিন লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে, সাজা ঘোষণার আগে যতদিন অভিযুক্ত জেলে ছিল, তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। বৃহস্পতিবার পকসো আদালতের বিচারক দেবশ্রী হালদার এই সাজা ঘোষণা করেন।  এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী গৌতমকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ওই নাবালিকার পরিচিত। ধর্ষণের ফলে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সেই মামলায় বিচারক এই সাজা ঘোষণা করেছেন। পকসো অ্যাক্ট অনুযায়ী নাবালিকাকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট তার পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা করে নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান চিকিৎসক। এরপরই পরিবারের লোকজন কীভাবে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ল তা নাবালিকার কাছে জানতে চান। ওই প্রতিবেশী মাস দুই-তিন আগে তাকে ধর্ষণ করে বলে নাবালিকা পরিবারের লোকজনকে জানায়। এরপরই নাবালিকার পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরেরদিন বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পরে অবশ্য সে জামিনে ছাড়া পায়। ৫ সেপ্টেম্বর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে নাবালিকার গর্ভপাত করানো হয়। তার নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ডিএনএ টেস্টও করানো হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে ৩১ অক্টোবর প্রথম চার্জশিট পেশ করেন এই মামলার তদন্তকারী অফিসার মীর মুজিবুর রহমান। ২০১৭ সালের ৯ আগস্ট তিনি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেন আদালতে। এই মামলায় ১১ জন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে বুধবার ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬(এ)(এফ) এবং পকসো অ্যাক্টের ৪ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান বিচারক। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ