অবশেষে স্বীকার করা হল। ‘অপারেশন সিন্দুর’ অভিযানে ভেঙে পড়েছিল ভারতের যুদ্ধবিমান! পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার কথা মেনে নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে ঠিক কতগুলি জেট ভেঙে পড়েছিল, সেই তালিকায় ভারতের বড় ভরসা রাফাল যুদ্ধবিমানও ছিল কি না, ভারতের শীর্ষ সামরিক কর্তার তরফে তা স্পষ্ট করা হয়নি। ওইসঙ্গে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক স্পর্শকাতর দাবি। দুই পড়শি দেশ পরমাণু যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে বারবার দাবি করেছেন ট্রাম্প সাহেব। তাঁর এহেন দাবি অলীক কল্পনামাত্র। দাবি করেছেন ভারতীয় সামরিক কর্তা। সিঙ্গাপুরে শাংগ্রি-লা ডায়ালগে অংশ নিয়েছেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান। ওই অনুষ্ঠানের ফাঁকে ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষকর্তা জানান, ভারতের ছ’টি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পাক দাবি ভিত্তিহীন। ভারতের কতগুলি বিমান ধ্বংস হয়েছে? এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে অনিল চৌহান বলেন, ‘জেট ধ্বংস হওয়া এবং তার সংখ্যাটিও গুরুত্বপূর্ণ নয়, চিন্তার বিষয় হল—সেগুলি ভেঙে পড়ল কেন? কোথায় ভুল-ত্রুটি হয়েছিল? ভালো বিষয় হল, ট্যাকটিকাল ত্রুটিগুলি আমরা বুঝতে পেরেছি। সেগুলি শুধরেও নিয়েছি আমরা। দু’দিন পর ফের আমাদের সব জেট ওড়ানো হয়েছে এবং আঘাত হানা হয়েছে লং রেঞ্জ টার্গেট বা বহু দূরের নিশানায়।’
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার সত্যতা সম্পর্কে সরকার বা সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তর থেকে এতটা স্পষ্ট জবাব এর আগে মেলেনি। ঘটনাচক্রে, এই রিপোর্ট সামনে আসছে যে, রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতির জল্পনা নিয়ে ফ্রান্সের তরফে ভারতের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ভারত-পাক সংঘাত পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াচ্ছিল বলে যে ভয়ানক দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট করছেন, ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ তা পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন। ভারতের এই শীর্ষ সামরিক কর্তার বক্তব্য, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, চিরাচরিত অপারেশন আর পরমাণু যুদ্ধের মধ্যে ফারাকটা আসমান-জমিন। পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার পরিস্থিতি সামলাতে যোগাযোগের মাধ্যমগুলি সবসময় খোলাই থাকে। চরম উত্তেজক মুহূর্তেও, তা প্রশমনে থাকে অন্য একাধিক পথ। এজন্য পরমাণু অস্ত্রে হাত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।’ চৌহান আরও বলেন, ‘চীনসহ একাধিক দেশ থেকে পাকিস্তান যেসব অস্ত্রশস্ত্র পেয়েছিল সেগুলি কাজে দেয়নি। পাকিস্তানের ৩০০ কিমি ভিতরে উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থিত এয়ারফিল্ডেও নিখুঁত আঘাত হেনেছি আমরা।’
ভারতের সামরিক বিভাগের পরাক্রম এবং দক্ষতা নিয়ে দেশবাসীর কোনও সংশয় নেই। দেশের জন্য বীর সেনাদের নিষ্ঠা, আত্মত্যাগের মনোভাব আমাদের সবচেয়ে বড় ভরসা এবং গর্বের জায়গা। পহেলগাঁও টার্গেট কিলিংয়ের মুখতোড় জবাব অপারেশন সিন্দুরেই দিয়েছেন তাঁরা। পাকিস্তান অতীতেও বারবার মোক্ষম ধাক্কা খেয়েছে। তবে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি কমবেশি হয়ে থাকে উভয় পক্ষেরই। চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখেও একটি পক্ষ তা স্বীকার করে না। বরং মনোবল ধরে রাখতে এবং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবে অসত্য প্রচারেই জোর দেওয়া হয়। অপারেশন সিন্দুরের সময় যেমনটা করেছিল আসিম মুনির, শাহবাজ শরিফের দেশ। তাদের আঘাতে নাকি একের পর এক রাফাল ভূপতিত হয়েছে এবং তারা ধ্বংস করে দিয়েছে ভারতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম! পাকিস্তানের আজগুবি দাবি ভারত বারবার উড়িয়ে দিলেও ব্যাপারটা স্পষ্টও করেনি। যে স্পর্শকাতর বিষয়টি দেশের মাটিতে স্পষ্ট করা হল না, সেটি সম্পর্কে বিদেশের মাটিতে প্রথম মন্তব্য করলেন শীর্ষ সামরিক কর্তা। এজন্য বেছে নেওয়া হল গ্লোবাল ডিফেন্স লিডারদের গোল টেবিল বৈঠকের শহর সিঙ্গাপুর। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, এটা কেন করা হল? জবাব দেশে এবং দেশবাসীকেই তো দেওয়া যেত। যুদ্ধবিমান ধ্বংস ইস্যুতে, সংগত কারণেই মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছে বিরোধী পক্ষ। অপারেশন সিন্দুরে দেশের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত ছবিটা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। কার্গিল যুদ্ধের পর সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গড়া হয়েছিল। এবারও, অবিলম্বে অনুরূপ পদক্ষেপ কাম্য।