নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘দুয়ারে রেশনে’র কার্যত বিরোধিতাই করল মোদি সরকার। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা যোজনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সংসদে লিখিতভাবে সেকথা জানিয়েও দিলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সাধারণ উপভোক্তা তো বটেই, এমনকী ৬৫ বছরের বেশি বয়সি বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কিংবা বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্যও বাড়িতে রেশন পৌঁছে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের নেই। খাদ্য সুরক্ষা আইনে এমন কোনও সুযোগই রাখা হয়নি।। সরকারও এ ব্যাপারে নতুন করে কিছু ভাবছে না। সংসদে সরকার এও জানিয়েছে, ভুয়ো রেশন কার্ড ধরা পড়লেই বাতিল করা হয়। ২০১৩ থেকে ২০২৩, এই ১০ বছরে গোটা দেশে এমন ৫ কোটি ৮৭ লক্ষ ২২ হাজার ৮৯৪টি রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
কিন্তু যাঁদের বাড়িতে কোনও কর্মঠ সদস্য নেই, এমন একা বয়স্ক মানুষরা প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার বিনামূল্যের চাল-গম পাবেন কীভাবে? এ নিয়ে কোনও দিশা দেখাতে পারেননি মন্ত্রী। ফলে নিজেকে গরিবের মসিহা দাবি করে নরেন্দ্র মোদি যে দেশের ৮০ কোটি ৫৬ লক্ষ মানুষকে ফ্রি রেশন দেওয়ার ঢাক পেটাচ্ছেন, তার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল। রাজনৈতিক মহলের মতে, আইনে না থাকলেও বাংলায় সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে ‘দুয়ারে রেশন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে বেআইনিই তকমা দিয়ে চাইছে মোদি সরকার।
একাকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধরা অনেক ক্ষেত্রেই রেশন পাওয়ার যোগ্য হলেও বঞ্চনা করা হচ্ছে তাঁদের সঙ্গে। যদিও সেক্ষেত্রে বাংলার এই কর্মসূচি কাজে লাগে বলেই মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। তিনি আরও বলেন, মানবিকতার প্রশ্নে বয়স্ক বা বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা যেতেই পারে। তবে বাকিদের ক্ষেত্রে দুয়ারে রেশন কর্মসূচি না হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বছরে ১২০ কোটি টাকা বেঁচে যায়। দুয়ারে রেশন পৌঁছনোর জন্য বাংলার ২০ হাজার ২৬১ জন দোকানদারকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেয় রাজ্য সরকার। এছাড়া বাড়তি কুইন্টাল প্রতি ৭৫ টাকা কমিশনও।