নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রবিবার সিপিএমের ব্রিগেড সমাবেশে বিভিন্ন নেতার কথায় উঠে এল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রসঙ্গ। প্রাক্তন বিধায়ক তথা খেতমজুর সংগঠনের নেতা নিরাপদ সর্দার উল্লেখ করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যাতে সব মহিলা পান, তার জন্য লড়াই-সংগ্রাম জারি থাকবে। একইসঙ্গে খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু জানান, আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছি। কিন্তু লক্ষ্মীদের যেখানে সম্মান থাকে না, সেই লক্ষ্মীকে ভাণ্ডার মনে করছেন?
বস্তুত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সবথেকে জনমুখী প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে অনুসরণ করছে দেশের একাধিক রাজ্য। এমনকী এই প্রকল্পকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। সিপিএমের ব্রিগেড সমাবেশের প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখন সারা ভারতে মডেল। যে কোনও রাজ্যে মহিলাদের উন্নয়নে কিছু করার কথা উঠলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ আসে। সিপিএম, বিজেপির ঝান্ডার রং না দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সকলের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যবস্থা করেছেন।
এদিকে শ্রম কোড বাতিলের দাবিতে ২০ মে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই ধর্মঘট সফল করার আহ্বান ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে রেখেছে সিটু।
তাই নিয়ে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা ধর্মঘটের বিপক্ষে। ধর্মঘট যারা ডেকেছে, তাদের নেতৃত্বাধীন সরকার কেরলে কেন রুল ফ্রেম করেছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিন সিপিএম নেতারা। বাংলায় শিল্পবান্ধব ও শ্রমিক বান্ধব পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।
এদিন ব্রিগেড সমাবেশ থেকে বিজেপি ও তৃণমূলকে তুমুল আক্রমণ শানায় সিপিএম। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, সিপিএমের ব্রিগেড জমেনি। দিশাহারা বক্তৃতা নেতাদের। বিজেপিতে যাওয়া ভোট আগে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক সিপিএম। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সিপিএমের আগের নেতারা দলকে শূন্য করেছেন। এখনকার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক দলকে জামানত জব্দ করার দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।
তবে এদিন কংগ্রেসকে নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেনি সিপিএম। বিষয়টি নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, কংগ্রেস হচ্ছে ও-পজিটিভ ব্লাড, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তাই যাঁরা মানুষের কথা বলতে চান, তাঁরা কংগ্রেস সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেবেন না, এটাই মনে করি।