সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: চারদিকে ঘন জনবসতি। অপরিসর রাস্তা। মধ্যিখানে পার্ক। আর সেই পার্কেই গড়ে উঠেছে আস্ত রণক্ষেত্র। কামান থেকে ট্যাঙ্কার, রাফাল যুদ্ধবিমান... গুলি-বোমার আওয়াজে কান পাতা দায়! এক লহমায় মনে হবে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কোনও যুদ্ধের মাঝখানে। পরক্ষণেই ভেসে আসছে ঢাকের শব্দ। শুনতে অবাক লাগলেও, এবার পুজোয় লেবুতলা পার্ক অর্থাৎ সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে পা রাখলে এমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকবে কলকাতাবাসী।
মধ্য কলকাতার অন্যতম চর্চিত পুজোমণ্ডপ সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার (লেবুতলা)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বানভাসি শহরে বিনা আড়ম্বরেই উদ্বোধন হয়েছে মণ্ডপের। বুধবার থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন পুজোপ্রেমীরা। প্রত্যেকেই চমকে যাচ্ছেন মণ্ডপের সামনে পা রেখেই। কারণ, থিম! দিল্লির লালকেল্লা থেকে লাস ভেগাসের স্ফিয়ার, রামমন্দির— গত কয়েক বছর একের পর এক চমক দিয়েছেন সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের উদ্যোক্তারা। এবার তাঁদের ভাবনায় পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাত... ‘অপারেশন সিন্দুর’! মণ্ডপের বাইরেটা পাহাড়ের আদলে। তার এবড়োখেবড়ো গায়ে ফুটে উঠেছে গত ৭ মে গভীর রাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানে চালানো ভারতীয় সেনার সামরিক অভিযানের খণ্ডচিত্র। সৌজন্যে এআই। পহেলগাঁওয়ে নারকীয় জঙ্গি হামলা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রত্যাঘাতের শপথ এবং অপারেশন সিন্দুর— প্রতিটি পর্বই এআইয়ের ‘সুতোয়’ বেঁধে তৈরি হয়েছে এক ‘গ্র্যান্ড লেজার শো’।
সেনাবাহিনীর অসামান্য সাহস এবং বীরত্বের পাশাপাশি তুলে ধরা হবে হিন্দু বিবাহিত নারীদের কাছে সিন্দুরের মাহাত্ম্য এবং শাঁখা-পলার গুরুত্ব। থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সেজে উঠেছে গোটা মণ্ডপ, এমনকি প্রতিমা পর্যন্ত। দেবী দশভুজার ঠিক উলটোদিকে বিরাট আকারের আর একটি দুর্গার মুখ। শুধু তাই নয়, মণ্ডপের ভিতরে থাকবে একাধিক নারীর মুখ। আর তাঁদের সিঁথিতে জ্বলজ্বল করবে সিন্দুর। সেই সঙ্গে থাকছে হিন্দু ধর্মমতে বিয়ের যাবতীয় রিচুয়ালের ছোটছোট কোলাজ। উদ্যোক্তাদের সাফ কথা, এখন আর ভারতীয়দের কাছে সিন্দুর শুধু শোভা নয়, শপথও।
এবার ৯০ বছরে পা রাখছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে বিদ্যুৎ পাল। জয়পুর থেকে এসেছে লাইট। প্রতিমার দায়িত্বে মিন্টু পাল। লেজার শোয়ের নেপথ্যে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ স্বয়ং। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার পুজোর অন্যতম কর্তা কথা সজল ঘোষ জানান, ‘এবার পুজো আমরা ভারতবর্ষের সমস্ত সেনা জওয়ানদের উৎসর্গ করছি।’