Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

হামলায় লস্কর যোগ, রাষ্ট্রসঙ্ঘে নীরব পাক

রাষ্ট্রসঙ্ঘে মুখরক্ষার মরিয়া ফর্মুলা চেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছিল পাকিস্তান।

হামলায় লস্কর যোগ, রাষ্ট্রসঙ্ঘে নীরব পাক
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রসঙ্ঘে মুখরক্ষার মরিয়া ফর্মুলা চেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হল ইসলামাবাদকে। পহেলগাঁওয়ে লস্কর যোগ কি সত্যি? লস্কর নিয়ে আপনাদের ভূমিকা কী? এসব প্রশ্নে কোণঠাসা পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ মঞ্চে চেপে ধরল নিরাপত্তা পরিষদ। আর ইসলামাবাদ এই প্রশ্নে নীরব। নিরাপত্তা পরিষদের প্রশ্ন যে মোক্ষম প্রাসঙ্গিক তার প্রমাণ হল, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জেনেছে, জঙ্গি-মদত পাকিস্তান বজায় রেখেছে। সীমান্তে জয়েশ-ই-মহম্মদের বিরাট সংখ্যক জঙ্গিবাহিনী মোতায়েন হয়েছে। বালাকোটের ১০ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকাজুড়ে ক্যাম্প তৈরি করেছে জয়েশ। শুধুমাত্র কাশ্মীরে অপারেশনের জন্যই নেমেছে জয়েশের দুই প্রক্সি ফোর্স—কাশ্মীর টাইগারস এবং কাশ্মীর ফ্রিডম আর্মি। ভারত থেকে ১৯৯০-এর দশকে পাকিস্তানে চলে যাওয়া মাজিদ সুলেমানি একটি বাহিনীর কমান্ডার। তার মাধ্যমেই ট্রেনিং হয়েছে অন্তত ১০০ যোদ্ধার। ভারত যেখানে যে কোনও সময় নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মতো আক্রমণ করতে পারে বলে জল্পনা ও সম্ভাবনা প্রবল, ঠিক সেই সময়ে এভাবে জয়েশ কেন সেই নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছেই জঙ্গি বাহিনী মোতায়েন করছে? এটাই প্রশ্ন। এবং এই সন্দেহ আরও স্পষ্ট। কারণ, উত্তপ্ত আবহাওয়ার মধ্যেই একের পর এক সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী পাক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে গিয়ে গ্রেপ্তার হচ্ছে। বিগত তিনদিনে তিনজন পাক নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছে। রাজস্থান, কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবের সীমান্তে। ধৃতদের একজন পাকিস্তানি রেঞ্জার।
ভারত যে প্রত্যাঘাত করবেই, সে ব্যাপারে নিশ্চিত পাকিস্তান। তাই আন্তর্জাতিক সমর্থনের ভরসায় দফায় দফায় রাষ্ট্রসঙ্ঘে আবেদন করছে তারা। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশেষ সুফল মেলেনি। পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ অস্থায়ী সব সদস্যদের নিয়ে এদিন বৈঠকে বসে। ভারত তাতে অংশ নেয়নি। পাকিস্তানের আশা ছিল, ভারতের অনুপস্থিতিতে অনেকটাই সুবিধা পাওয়া যাবে। কিন্তু না। উল্টে পাকিস্তানকে ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে একঝাঁক সদস্য দেশ কোণঠাসা করে। প্রশ্ন করা হয় লস্করের ভূমিকা নিয়ে। লস্কর-ই-তোইবার মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই প্রশ্নও করা হয়। পরামর্শ দেওয়া হয়—যদি তাদের পক্ষ থেকে কোনও গাফিলতি থাকে, সেই দায় স্বীকার করতে হবে। 
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে সংবাদ রয়েছে, পাকিস্তান দুই বাহিনীকেই তৈরি করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং জঙ্গিবাহিনী। অর্থাৎ অফিশিয়াল সংঘাতের পাশাপাশি পাকিস্তান প্রক্সি ওয়ার চালিয়েই যাবে জঙ্গিদের মাধ্যমে। উদ্বেগের কারণ হল, যে জঙ্গিবাহিনী পহেলগাঁওতে আক্রমণ চালিয়েছিল, তাদের প্ল্যান ছিল আরও একঝাঁক পর্যটন স্থলে হানা দেওয়া। সেই তালিকায় ভারতের আর কোন স্থান রয়েছে? আপাতত এটাই জানতে মরিয়া গোয়েন্দারা।

Advertisement

সীমান্তে জয়েশ-ই-মহম্মদের বিরাট জঙ্গিবাহিনী মোতায়েন হয়েছে। বালাকোটের ১০ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকাজুড়ে ক্যাম্প তৈরি করেছে জয়েশ। শুধু কাশ্মীরে অপারেশনের জন্যই নেমেছে জয়েশের দুই প্রক্সি ফোর্স—কাশ্মীর টাইগারস এবং কাশ্মীর ফ্রিডম আর্মি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ