নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গুমা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ‘জমি মাফিয়া’ গৌতম দাসকে দোষী সাব্যস্ত করল বারাসত আদালত। আগামী কাল, বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক। স্থানীয় মানুষ ও মৃতের পরিবারের লোকজন গৌতমের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে অশোকনগর থানার গুমা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তৃণমূল নেতা বিজন দাসকে গুলি করে খুন করে জমি কারবারি গৌতম দাস। সেদিন পিকনিক সেরে বিজনবাবু তাঁর বন্ধু তুহিন দত্তের বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁকে একা পেয়ে গৌতম গুলি করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। গুলিকাণ্ডের ২৫ দিন পর মূল অভিযুক্ত গৌতম দাসকে বসিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। নিজেদের হেফাজতে নিয়ে খুনের আসল কারণ জানার পাশাপাশি ঘটনা পুনর্নির্মাণ করে পুলিস। তখন পুলিসকে গৌতম জানায়, ‘উপপ্রধান বিজন দাস একাধিকবার আমাকে হেনস্তা করেছেন। ওই দিন রাতেও গালিগালাজ করেছিলেন। সেই আক্রোশ থেকেই তুহিন দত্তের বাড়িতে ঢুকে পিস্তল দিয়ে বিজনবাবুকে গুলি করেছিলাম। তারপর ওই অস্ত্রটি পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে রেখে চলে যাই’। প্রায় দেড় বছর ধরে মামলাটি চলেছে বারাসত আদালতে। ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা করে অশোকনগর থানা। সমস্ত তথ্যপ্রমাণের উপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার গৌতমকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। সাজা ঘোষণা হবে আগামী কাল।
মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, এলাকায় যথেষ্ট নামডাক ছিল বিজনবাবুর। তাঁর আমলে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিল এই পঞ্চায়েত। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের নৃশংস খুনে আমরা দোষীর ফাঁসির সাজা দাবি করব। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর যদিও এদিন গৌতম বলে, ‘পুলিস ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি আমি। ফাঁসানো হয়েছে আমাকে’। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ধীমান রায় বলেন, ‘বিজন আমাদের পুরনো কর্মী। তাঁর খুনির কঠোর শাস্তি চাই আমরা।’