নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছতে বাধা সিস্টেমের ঘুণপোকাই? কলকাতা পুরসভার ৫ নম্বর বরোর কর্মী উমেশ দাসকে গ্রেপ্তারের পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে পুলিস ও পুর প্রশাসনের হাতে। শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, অ্যাকাউন্ট নম্বর খোদ ‘সার্ভারে’ বদলে দিয়ে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার টাকাও আত্মসাৎ করেছে পুর প্রশাসনের অন্দরে বসে থাকা কর্মী-অফিসারদের একাংশ। ইতিমধ্যেই বড়বাজার এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে এমন ৫৪টি ‘সন্দেহজনক’ অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে পুর কর্তৃপক্ষ, যেখানে সরকারি প্রকল্পের টাকা জমা পড়ে। বেশিরভাগটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার হলেও বেশ কিছু অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতার টাকাও। তদন্তে পুলিস ও পুর প্রশাসন জানতে পেরেছে, বহু অ্যাকাউন্ট নম্বর মূল সার্ভারেই বদলে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ফোন নম্বরও। যে তালিকা তদন্তকারী অফিসাররা হাতে পেয়েছেন, তাতে গ্রাহক বা বেনিফিশিয়ারির জায়গায় দাদা-দিদির মতো সম্বোধন, এমনকী বহু রাজনৈতিক নেতৃত্বের নামও লেখা আছে। শুধু তাই নয়, একটি মোবাইল নম্বরে একাধিক আধার নম্বর দেখিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যকাউন্ট খোলা হয়েছে। তাতেই সন্দেহ আরও তীব্র হয়েছে তদন্তকারীদের। অর্থাৎ, একটি বড় চক্র সক্রিয় রয়েছে আড়ালে। উপভোক্তাদের টাকা লোপাটের এমনই একটি চক্র বছর দুয়েক আগেও সক্রিয় হয়েছিল। সেবারও পুলিসের সাহায্য নিয়ে চক্র ভেঙেছিল নবান্ন। এবারও সেই প্রক্রিয়াই শুরু হয়েছে।



