নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎসব পর্ব মিটলেই বাংলাসহ দেশের অন্যান্য রাজ্যে ভোটার তালিকায় শুদ্ধকরণের নামে এসআইআরে নামবে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে এমনই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত খবরও বুধবার সামনে এসেছে। তার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দলের সাংগঠনিক বৈঠকে দলের নেতাদের সজাগ ও সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন সাংগঠনিক এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন অভিষেক। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে উঠে এসেছে এসআইআর প্রসঙ্গ। উৎসব পর্ব মিটলে যদি এসআইআর নিয়ে কমিশন কোনও পদক্ষেপ করে, তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী তৃণমূলের আন্দোলন কর্মসূচি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে অভিষেক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সব জনপ্রতিনিধ ও নেতা-কর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ভোটার তালিকার দিকে সবসময় নজর রাখতে হবে। কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে বাদ না পড়ে, সেদিকে প্রত্যেককে নজর রাখতে হবে।
এদিন বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে বিধানসভা ভিত্তিক ব্লক ও টাউন সভপতি বাছাই নিয়ে। এছাড়া ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়েছে। প্রত্যেক বুথে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং তৃণমূলকে জেতানোর নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। যে বুথগুলি তৃণমূল সাংগঠনিক দিক থেকে শক্তিশালী নয়, সেখানে পাড়া বৈঠক, কর্মিসভা করার কথা বলা হয়েছে। বাড়াতে হবে জনসংযোগ। হারা বুথে দলকে জেতানোই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। গোসাবা বিধানসভা এলাকায় পাঁচজনের একটি কোর কমিটি করা হচ্ছে বলে খবর।
অন্যদিকে, এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি বাংলা ও বাঙালি বিরোধী। কখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মিছিল থেকে বিজেপি কর্মীরা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙছে। আবার কখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের পায়ের তলায় থাকছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়! আবার বাঙালি মনীষীদের জন্মস্থান ভুল বলছেন বিজেপি নেতারা। ফলে নানাভাবে বাংলার মনীষীদের অপমান করেই চলেছেন গেরুয়া ধ্বজাধারীরা। বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।