Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

৪৩ কোটিতে মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রি ট্রাম্পের

৪৩ কোটিতে মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রি ট্রাম্পের
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ওয়াশিংটন: ফেল কড়ি, পাও নাগরিকত্ব! সৌজন্যে ‘বেচুবাবু’ ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৩ কোটিরও বেশি টাকার বিনিময়ে মার্কিন নাগরিকত্ব বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। মোটা অর্থ মেটালেই মিলবে ‘গোল্ড কার্ড’। আর তাতেই খুলে যাবে আমেরিকার দরজা। মিলবে স্থায়ী নাগরিকত্বের অনুমোদন।
Advertisement
এমনিতে বিদেশিদের পক্ষে ‘মার্কিন’ হওয়া সহজ কথা নয়। বিস্তর জটিলতা রয়েছে। গ্রিন কার্ড পেতেও বছরের পর বছর অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই। চোরাপথে গেলেও হাতে-পায়ে শিকল পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এই অবস্থায় ‘ধনকুবের’ বিদেশিদের জন্য নয়া অভিবাসন নীতির ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘আমরা গোল্ড কার্ড বিক্রি করব। প্রতিটির দাম হবে ৫ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা)। এটি কিনলে গ্রিন কার্ডের মতোই সুযোগ সুবিধা মিলবে। সেইসঙ্গে স্থায়ী নাগরিকত্বের নয়া পথ খুলে যাবে। গোল্ড কার্ড কিনে ধনকুবেররা আমাদের দেশে বসবাস করতে পারবেন।’
কত গোল্ড কার্ড বেচবে ট্রাম্প সরকার? মার্কিন প্রেসিডেন্টের জবাব, ‘১০ লক্ষের বেশি।’ তবে এই কার্ড বিক্রির প্রক্রিয়া কী হবে? আবেদনের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মানতে হবে? কোনও শর্ত থাকবে কি না?—সেই ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেননি ট্রাম্প। শুধু জানিয়েছেন, সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যেই এব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যাবে। তাঁর মতে, গোল্ড কার্ড বিক্রি করে যে বিপুল অর্থ মিলবে, তা দিয়ে জাতীয় ঋণ একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনা যাবে। এমনকী প্রয়োজনে কার্ড বিক্রির সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বর্তমানে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেতে ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টার ভিসা প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস সেব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছিল। এই ব্যবস্থায় মার্কিন মুলুকে ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতেই হতো সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিনিয়োগকারীকে। সেই সঙ্গে কমপক্ষে ১০ জনের কর্মসংস্থানও ছিল বাধ্যতামূলক। এই দুই শর্ত পূরণ করলেই মিলত অভিবাসীর ছাড়পত্র। কিন্তু, ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ৩৫ বছর পুরনো এই অভিবাসন নীতি তাঁর না-পসন্দ। প্রেসিডেন্টকে সমর্থন করেছেন মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। বলেছেন, ‘ইবি-৫ একেবারে ফালতু প্রকল্প। সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করারও সুযোগ রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এধরনের হাস‌্যকর প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার কোনও মানেই হয় না। ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ চালু করে আমরা ওই ব্যবস্থাকে বদলে দেব।’ 
এদিন লুটনিককে পাশে বসিয়েই এসংক্রান্ত নির্দেশিকায় সই করেছেন ট্রাম্প। তারপরই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তা, ‘এই কার্ড কিনে ধনী ব্যক্তিরা আমাদের দেশে আসতে পারবেন। তারা এখানে এসে আরও ধনী হবেন। অনেক খরচ করবেন। করও দেবেন। বহু নাগরিকের কর্মসংস্থান করবেন। আর এই নয়া নীতি চালু করতে কংগ্রেসের অনুমোদনেরও দরকার নেই।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ