Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫ কোটি ব্যয়ে পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির কারখানা সাঁইথিয়া পুরসভার

৫ কোটি ব্যয়ে পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির কারখানা সাঁইথিয়া পুরসভার
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: শহরের বর্জ্য পদার্থ থেকে জৈব সার এবং অপচনশীল প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহারের জন্য তৈরি হচ্ছে জৈব সার প্রস্তুতকারী কারখানা। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নতুন কারখানা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সাঁইথিয়া পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডে এই কারখানার নির্মাণ শুরু হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ বীরভূমে এই প্রথম। 
Advertisement
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর কয়েক আগে সাঁইথিয়া পুরসভার বাসিন্দাদের দু’টি ভিন্ন রঙের বালতি দেওয়া হয়েছিল। বালতি দু’টির একটিতে পচনশীল এবং অন্যটিতে অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ জমা করার কথা। পুরসভার উদ্যোগে প্রতিদিন প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের প্রতিটি বাড়ি থেকে সেই বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে নেওয়া হয়। তারপর সেই বর্জ্য পদার্থ শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ডাম্পিং রাউন্ডে জমা করা হয়। শুধু বাড়ি থেকে নয়, শহরের রাস্তাঘাট, নর্দমা ও ডাস্টবিনের বর্জ্যও সেখানে ফেলা হয়। তারপর এই বর্জ্য থেকে পচনশীল এবং অপচনশীল উপাদান আলাদা করা হয়। আর সেখানেই পচনশীল উপাদান থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয় জৈব সার। তারপর সেই জৈব সার ১০ টাকা কেজি দরে সাঁইথিয়া পুরসভা থেকে চাষি এবং সাধারণ মানুষ অর্থাৎ গাছপ্রেমীদের বিক্রয় করা হয়। পুরসভার দাবি, বছরে এই বর্জ্য পদার্থ থেকে প্রায় দুই  কুইন্টালেরও বেশি জৈব সার উৎপাদন করা হয়। সেই সার কেনেন চাষি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। জৈব সারের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার সাঁইথিয়া পুরসভা প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক কারখানা তৈরির উদ্যোগ নিল। এই কারখানায় পচনশীল ও অপচনশীল উপাদান আলাদা করে আধুনিক মেশিনের সাহায্যে জৈব সার তৈরি হবে। সেই সঙ্গে থাকবে অপচনশীল প্লাস্টিক উপাদান থেকে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির ব্যবস্থা। ভবিষ্যতে এই অপচনশীল উপাদান শহরের রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ শহরের বর্জ্য থেকে একদিকে জৈব সার তৈরি করে যেমন বিক্রি করা হবে তেমনি অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে রাস্তা তৈরি হবে। ফলে পুরসভার কোষাগারও পুষ্ট হবে। যে অর্থ পরবর্তীকালে পুরসভারই বিভিন্ন উন্নয়নের খাতে খরচ করা হবে।
সাঁইথিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত বলেন, শহরের বর্জ্যকে নতুন করে যাতে কাজে লাগানো যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডে একটি আধুনিক কারখানা তৈরি শুরু হয়েছে। তাতে অটোমেটিক মেশিনে পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদন হবে এবং অপচনশীল প্লাষ্টিক জাতীয় জিনিস থেকে রাস্তা নির্মাণের উপকরণ তৈরি হবে। তাতে পুরসভার আর্থিক লাভ হবে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া যাবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ