সংবাদদাতা, লালবাগ: নবগ্রাম ব্লকের কিরীটেশ্বরী পঞ্চায়েতের বিনোদপুর গ্রামে আর্সেনিকমুক্ত জল প্রকল্পের কাজ জোরকদমে চলছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছে দেওয়া হবে। জল সরবরাহ চালু হলে নবগ্রাম ও মুর্শিদাবাদ বিধানসভার মোট ১৬টি অঞ্চলে ৭০ হাজারের বেশি পরিবারের দীর্ঘদিনের পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। মঙ্গলবার বিনোদপুর জল প্রকল্প চত্বরে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানানো হয়। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গিপুরের সাংসদ তথা তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান, নবগ্রামের বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল, তৃণমূলের নবগ্রাম ব্লক সভাপতি মহম্মদ এনায়েততুল্লা সহ অন্যান্য নেতারা।
Advertisement
নবগ্রাম ব্লকে পানীয় জলের সমস্যা বিগত কয়েক দশকের। ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। অপরিস্রুত জলের অভাবে মানুষকে সেই জলই পান করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই আর্সেনিকযুক্ত পানীয় জলের দাবি নবগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের দাবিকে মান্যতা দিয়ে পানীয় জল প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সাগরদিঘির ধুমার পাহাড়ে প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবগ্রামের জল প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। প্রায় তিন মাসের মাথায় রবিবার, ২ এপ্রিল প্রকল্পের কাজের সূচনা হয়। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের (পিএইচই) তত্ত্বাবধানে আগামী দু’ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের জলস্বপ্ন প্রকল্পের অধীনে নবগ্রামের জল প্রকল্পে মোট বরাদ্দ হয়েছে প্রায় তিনশো কোটি টাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচগ্রাম, নবগ্রাম ও অমৃতকুণ্ডের ভূগর্ভস্থ জল প্রকল্পের অধীনে নবগ্রাম ব্লকের কিছু এলাকায় পানীয় জল পৌঁছয়। বাকি এলাকার বাসিন্দাদের নলকূপের জলই ভরসা। এদিকে গ্রীষ্মের কয়েক মাস চরম জলসঙ্কট দেখা দেয়। কাজেই আপামর নবগ্রামবাসীর পানীয় জল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল। বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ফাররাবাগে ভাগীরথী থেকে জল তুলে বিনোদপুর জলাধারে পাঠানো হবে। ওখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে পরিস্রুত করে পাইপ লাইনে সেই জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জলের সংযোগ দেওয়া হবে। এই প্রকল্প চালু হলে নবগ্রাম ব্লকের ১০টি অঞ্চল, বহরমপুর পশ্চিম ব্লকের শাহাজাদপুর, নিয়াল্লিশপাড়া, রাধারঘাট ১ ও ২ এবং মুর্শিদাবাদ-জিয়াগঞ্জ ব্লকের মুকুন্দবাগ ও ডাহাপাড়া অর্থাৎ মোট ১৬টি অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছবে। পরবর্তীতে এখান থেকে বীরভূমের নলহাটির বেশ কিছু এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ হবে। কিরীটেশ্বরীর বাসিন্দা বাপি মণ্ডল বলেন, জলের জন্য এখানকার বাসিন্দারা সারাবছর পেটের অসুখে ভোগেন। বিনোদপুরের বাসিন্দা গৃহবধূ কল্যাণী দাস বলেন, রান্না ও খাওয়ার জন্য টিউবওয়েলের জলই একমাত্র ভরসা। জল প্রকল্প চালু হলে সমস্যা মিটবে। শুনছি বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানীয় জল পাওয়া যাবে।



