Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১ কোটি ১২ লক্ষ কৃষককে বিমার ৩৫৬২কোটি টাকা সরকারের 

১ কোটি ১২ লক্ষ কৃষককে বিমার ৩৫৬২কোটি টাকা সরকারের 
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: একসময় দুর্যোগ নামলেই চাষিদের রাতের ঘুম চলে যেত। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে কপাল চাপড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় থাকত না। রাজ্য সরকার বিনামূল্যে বিমা করে দেওয়ার পর চাষিদের সেই দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। সরকার এখনও পর্যন্ত এক কোটি ১২লক্ষ কৃষককে বিমার টাকা দিয়ে নজির তৈরি করেছে। গত ছ’বছরে তিন হাজার ৫৬২কোটি টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, বিমা করার জন্য চাষিদের এক টাকাও দিতে হয় না। শুধু ক্যাম্পে এসে ফর্ম ফিলআপ করলেই তাঁরা বিমার টাকা পেয়ে যান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় চাষিদের পাশে থাকেন। এখন কোনও চাষিকে কম দামে ধান বিক্রি করতে হয় না। সরকার ক্যাম্প করে সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে। ফড়েরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে তা কৃষকদের দেখতে হবে। গত বছর দুর্যোগের কারণে দক্ষিণবঙ্গের বহু জেলার আলুচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চাষিরা বিমার মোটা অঙ্কের টাকা পেয়েছেন।
কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিমার পাশাপাশি কৃষকবন্ধু প্রকল্পেও রাজ্যে বহু চাষি উপকৃত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পে ১কোটি ৮লক্ষ কৃষক সুবিধা পেয়েছেন। এই প্রকল্পে চাষের জন্য দু’বার আর্থিক সহায়তা করা হয়। এছাড়া কৃষক মারা গেলে তাঁর পরিবারকেও আর্থিক সাহায্য করা হয়। এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ ২৯হাজার ৬৪জন কৃষকের পরিবার এই সুবিধা পেয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, আগে সবসময় চাষিদের চিন্তায় থাকতে হতো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর চাষিদের সেই চিন্তা দূর হয়েছে। বন্যা বা অন্য কারণে চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষকরা মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতিপূরণ পান। তবে অনেক সময় কিছু কৃষক ফসলের ক্ষতি না হওয়ার পরও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এবার ‘ডানা’র পর কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কয়েকটি জায়গায় ধান পড়ে যায়নি। তা সত্ত্বেও চাষিরা ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছিলেন। কিন্তু তেমনটা নয়।  কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ফসলের ক্ষতি হলে একাধিকবার মাঠ পরিদর্শন করা হয়। বিমা সংস্থার লোকজনও মাঠে যান। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার পাশাপাশি কর্প কার্টিংও করা হয়। এবারও তেমনটাই করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার আটটি ব্লকের চাষিরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। অন্যান্য জেলাতেও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ