Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তেরো বছরে শীতলতম কলকাতা! ঠান্ডায় কুপোকাত, রুম হিটার কিনতে গিয়ে ‘ওয়েটিং স্লিপ’!

মাসকয়েক আগে অতিবৃষ্টিতে ভেসেছিল কলকাতা। তার কিছুদিন আগে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়েছিল শহরবাসীর। গরমের হাত থেকে বাঁচতে এসি কেনার ধুম পড়ে যায় প্রতি গ্রীষ্মেই।

তেরো বছরে শীতলতম কলকাতা! ঠান্ডায় কুপোকাত, রুম হিটার কিনতে গিয়ে ‘ওয়েটিং স্লিপ’!
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাসকয়েক আগে অতিবৃষ্টিতে ভেসেছিল কলকাতা। তার কিছুদিন আগে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়েছিল শহরবাসীর। গরমের হাত থেকে বাঁচতে এসি কেনার ধুম পড়ে যায় প্রতি গ্রীষ্মেই। লাইন পড়ে যায় ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানে। কিন্তু এ যে সাক্ষাৎ উলটপুরাণ! জাঁকিয়ে শীতের মধ্যেও বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দোকানে ভিড়। তবে কারণটা আলাদা! ঘর ঠান্ডা রাখার মেশিনের বদলে শহরবাসী ছুটছে ঘর গরম রাখার মেশিন কিনতে! আরও কয়েকদিন এরকম ঠান্ডা থাকবে বলে আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে। সব মিলিয়ে রুম হিটারের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। কিন্তু বৈদ্যুতিন সামগ্রীর কারবার করা বহুজাতিক সংস্থাগুলি ভাবতে পারেনি, আচমকা এতটা বেড়ে যাবে রুম হিটারের চাহিদা। তাই মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল, দোকানে দোকানে রুম হিটারের কাস্টমার আছে, কিন্তু জোগান নেই। অগত্যা ক্রেতার নাম, ফোন নম্বর নিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ওয়েটিং স্লিপ।’ বলে দেওয়া হচ্ছে, ‘স্টক এলেই ফোন করে দেওয়া হবে।’

Advertisement

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর বলছে, মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.৭ ডিগ্রি কম। শুধু তাই নয়, এদিন সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬.৭ ডিগ্রি কম। দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এদিন ছিল ৯.৫ ডিগ্রি। আর সল্টলেক ১০.৪ ডিগ্রি। কলকাতা শহরের রীতিমতো জবুথবু অবস্থা। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বারাকপুরে ৮.২, বসিরহাটে ৯.৫, উলুবেড়িয়া ৯, ডায়মন্ডহারবার ৯.৪, কাকদ্বীপ ১০.৫ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছে। হুগলির মগরায় পারদ নেমে আসে ৮ ডিগ্রিতে। তবে কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলির মধ্যে ঠান্ডায় সবাইকে হারিয়ে দিয়েছে কল্যাণী (৭ ডিগ্রি)! রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৮৯৯ সালে একবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমেছিল। মাঝে ২০২৩ ও ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছিল যথাক্রমে ১০.৯ ও ১০.৫ ডিগ্রি। ২০১১ ও ২০১২ সালেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-এর ঘরে এসেছিল। আর ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি শহরের তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি। তারপর মঙ্গলবারই কলকাতায় পারদ এতটা নামল। অর্থাৎ, গত ১৩ বছরে কলকাতায় এদিনটি ছিল শীতলতম। 
মোটামুটি হাজার দু’য়েক টাকা থেকে রুম হিটারের দাম শুরু। খুব ভালো নিতে গেলে ১০-১২ হাজার টাকা পড়ে। এদিন গড়িয়ার একটি দোকানে রুম হিটারের খোঁজে এসেছিলেন এক ব্যক্তি। তাঁকে শুনতে হল, ‘এখন হবে না স্যার। স্টক নেই।’ সুজয় দাস নামে নাকতলার ওই বাসিন্দা বলছিলেন, ‘বেশ কয়েকটা দোকান খুঁজলাম। হিটার পাচ্ছি না। বাড়িতে বাচ্চা ও বয়স্কদের এই ঠান্ডায় বেশ কষ্ট হচ্ছে।’ গড়িয়াহাটের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এত রুম হিটার বিক্রি হতই না কোনওদিন।  এই মরশুমে ৪০-৪৫টা বিক্রি হয়েছে। কোম্পানির কাছেও স্টক নেই। আমরা বারবার বলছি। কিন্তু ওরা সাপ্লাই দিতে পারছে না।’ বলতে বলতেই এক ক্রেতা এসে হাজির। তাঁকে হিটার চালিয়ে ‘ডেমো’ দেখালেন দোকানের কর্মী। পছন্দও হল। কিন্তু সমস্যা সেই একই, স্টক নেই! উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের এক বিক্রেতার কথায়, ‘এত রুম হিটার বিক্রি কোনও বছর হয়নি। গত বছর দু’-একটা বিক্রি হয়েছিল। আগে জানলে বেশি স্টক করতাম।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ