মুম্বই: রোহিত শর্মার পর বিরাট কোহলি! সদ্য টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো হিটম্যানের পথে হাঁটার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চেজমাস্টার। বিসিসিআই’কে কোহলি জানিয়েছেন যে, তিনি আর টেস্ট খেলতে চান না। বোর্ড অবশ্য এখনই তাঁকে ছাড়তে রাজি নয়। প্রভাবশালী এক কর্তা শীঘ্রই তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক আরজিও জানানো হয়েছে থেকে যাওয়ার।
আগামী মাসে ইংল্যান্ড সফরে যাবে ভারতীয় দল। খেলবে পাঁচটি টেস্ট। ২০ মে সেই দল ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু বিরাটকে অনিশ্চয়তার জেরে তা দিন তিনেক পিছিয়ে যেতে পারে বলে সূত্রের খবর। কারণ এই লম্বা সিরিজে কোহলির অভিজ্ঞতা দলের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোহিতের অবসরের পর টেস্টে সম্ভাব্য অধিনায়ক হিসেবে শোনা যাচ্ছে শুভমান গিলের নাম। কিন্তু বিলেতে একেবারে অনভিজ্ঞ দল দিয়ে তাঁকে পাঠাতে ইচ্ছুক নয় বোর্ড। কোহলিকে সেজন্যই বোঝানোর চেষ্টা চলছে, এখনই টেস্ট থেকে অবসর না নিতে। উল্লেখ্য, টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার পর রোহিতের মতো তিনিও সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। টেস্ট অবসরের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে দেশের হয়ে একমাত্র ওডিআই ক্রিকেটেই দেখা যাবে ৩৬ বছরের মহাতারকাকে।
রোহিতের পর কোহলি যেভাবে টেস্টকে বিদায় জানাতে চেয়েছেন, তা কোচ গৌতম গম্ভীরের অতিরিক্ত হম্বিতম্বির রেশ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট মহল। সদ্য ভারতের প্রধান কোচ বলেছেন যে, রোহিত-কোহলিরা ৪০ কেন, ৪৫ বছর পর্যন্ত টেস্ট খেলতে পারে। তবে তার জন্য ওদের পারফরম্যান্স করতে হবে। নির্যাস হল, পারফরম্যান্স না থাকলে দলে কারও ঠাঁই নেই, তা তিনি যত বড় তারকাই হোন না কেন। গম্ভীরের মন্তব্যের পরের দিনই টেস্ট থেকে অবসর নেন রোহিত। একই পথে হাঁটতে চাইছেন কোহলিও। এতেই পরিষ্কার, গম্ভীর জমানায় দুই সুপারস্টার মোটেই স্বস্তিতে নেই। কিছুদিন আগে পর্যন্তও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন রোহিত। রাতারাতি কী এমন হল যে, সিনিয়ররা আর দেশের হয়ে খেলতে চাইছেন না? অথচ, টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন কোহলি। কিন্তু ‘গুরুগম্ভীর’ পরিস্থিতিতে তিনিও আচমকা সাদা পোশাকে দেশের হয়ে নামার তাগিদ হারিয়েছেন! এটাও ঠিক যে গত দু’বছরে তাঁর গড় নেমে এসেছে ৩২.৫৬-এ! তবু তো তাঁর থামার কোনও পরিকল্পনাই ছিল বলে মনে হয় না।
যাইহোক, কোহলি যদি সিদ্ধান্তে অটল থাকেন, তাহলে দীর্ঘ ১৪ বছরের বর্ণময় টেস্ট কেরিয়ারে দাঁড়ি পড়বে। ১২৩ টেস্টে ৪৬.৮৫ গড়ে ৯২৩০ রান এসেছে তাঁর ব্যাটে। রয়েছে ৩০টি সেঞ্চুরি। দশ হাজার টেস্ট রানের হাতছানিও যেভাবে তিনি হেলায় উপেক্ষা করতে চাইছেন, তাতে জল্পনা বাড়ছে। গম্ভীরের আগমনে ড্রেসিং-রুমের পরিবেশ কি এতটাই খারাপ হয়েছে? অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝপথে অবসর ঘোষণা করে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সটান দেশে ফেরার ঘটনাতেও তেমনই ইঙ্গিত।
ইংল্যান্ডে কোহলির তেমন সাফল্য নেই। ২০১৪ সালে পাঁচ টেস্টের সিরিজে করেছিলেন মাত্র ১৩৪ রান। ২০১৮ সালে অবশ্য সেই হতাশা ভুলিয়ে দিয়ে ভরসা জোগায় তাঁর ব্যাট। ডব্লুজি গ্রেসের দেশে মোট ১৭ টেস্টে ৩৩.২১ গড়ে এসেছে ১০৯৬ রান। গত অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতায় আত্মবিশ্বাসে কিছুটা টান পড়লেও সহজে তো আর পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নন কিং কোহলি! তাই রহস্য ক্রমশ জমাট বাঁধছে।