কানসাস সিটি: রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ের আগের ঘটনা। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে খেলতে মায়ামিতে পৌঁছেছে আর্জেন্তিনা। কিন্তু এয়ারপোর্টে চেকিংয়ের সময় বিপাকে দল। রক্ষণের স্তম্ভ কুটি রোমেরোর ব্যাগ থেকে এক বিশেষ লাইটার উদ্ধার করেছেন সিকিউরিটি গার্ড। আর তা দেখে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছেন লায়োনেল মেসি-রডরিগো ডে পলরা। সেই ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকে ভেবেছিলেন, বারবিকিউ বানানোর জন্য সঙ্গে লাইটার নিয়ে যাচ্ছেন রোমেরো। কিন্তু, তারজন্য তো দলের সঙ্গে বেশ কয়েকজন শেফ আছেন। তাহলে? আসলে, ‘পালো সান্তো’ কাঠ জ্বালানোর জন্য তা ব্যবহার করেন আর্জেন্তাইন ডিফেন্ডার।
এখন প্রশ্ন জাগতেই পারে ‘পালো সান্তো’ কী? এক ধরনের সুগন্ধি কাঠ যা আর্জেন্তাইনরা পবিত্র মনে করেন। দলকে অশুভ দৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে প্রতি ম্যাচের আগে তিনি এই কাঠ জ্বালান। তিনি একা বললে ভুল হবে। রোমেরো,লিসান্দ্রো মার্তিনেজ,মোলিনা— তিন বন্ধু ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর এই রীতি পালন করেছিলেন। বাকিটা ইতিহাস..। তারপর থেকে প্রতি ম্যাচের আগেই এই রীতি পালন করেন তিন বন্ধু। তাই টিমের বাকিরা এই ত্রয়ীর নাম দিয়েছেন ‘পালো সান্তো গ্যাং।’ তাহলে কি এবার বিশ্বকাপেও আর্জেন্তিনার সাফল্যের রহস্য এই পবিত্র কাঠ? কেপ ভার্দে এবং মিশরের বিরুদ্ধে যেভাবে খাদের কিনারা থেকে দল ঘুরে দাঁড়াল, তাতে অনেকেই তেমনটা ভাবছেন! আর আর্জেন্তিনা দলে ধর্মীয় রীতি পালন ঘটনা আগেও চোখে এসেছে। চলতি মেগা আসরেও কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচে একটা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ম্যাচের কঠিন সময়ে সাইডলাইনে রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের মাথায় পবিত্র জল ছিটিয়ে দিচ্ছেন এক সহকারী। এছাড়া আর্জেন্তিনার সাফল্যের পিছনে বারবিকিউ’র অবদান ভুললেও চলবে না। মাঠের লড়াই যত শক্তই হোক, ফুরফুরে থাকতে বেস ক্যাম্পে ফিরে ডিবু মার্তিনেজদের বারবিকিউ বানানো বাধ্যতামূলক। এবং সেই ভিডিও পোস্টও করেন তাঁরা।