Bartaman Logo
১৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ক্রমশ ভয়ংকর দেখাচ্ছে কেভিন ডি’ব্রুইনের বেলজিয়ামকে, আজ দুর্গ অক্ষত রাখাই চ্যালেঞ্জ স্পেনের

কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ড্র। তা সত্ত্বেও বলব, চলতি বিশ্বকাপে এখনও সেভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি স্পেনকে। গত ম্যাচে পর্তুগাল চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।

ক্রমশ ভয়ংকর দেখাচ্ছে কেভিন ডি’ব্রুইনের বেলজিয়ামকে, আজ দুর্গ অক্ষত রাখাই চ্যালেঞ্জ স্পেনের
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কার্লেস কুয়াদ্রাত: কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ড্র। তা সত্ত্বেও বলব, চলতি বিশ্বকাপে এখনও সেভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি স্পেনকে। গত ম্যাচে পর্তুগাল চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। তাই বলে রড্রি-ওলমোদের লড়াইকে খাটো করা উচিত নয়। কোনো গোল হজম না করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রশংসনীয়। এই পারফরম্যান্সের জন্য অবশ্যই কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তেকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। প্রথম ম্যাচে তাঁর দল নির্বাচন নিয়ে উঠেছিল নানা প্রশ্ন। তবে দ্রুত ভুল শুধরে সেরা একাদশ বেছে নেন তিনি। 

Advertisement

মর্ডান ফুটবলে এখন সবাই গোল নিয়ে অনেক বেশি চর্চা করে। কোন দল কত বেশি গোলে জিতছে, সেই নিরিখে তাদের বিচার করা হয়। বিশেষত ক্লাব ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখ, পিএসজি কিংবা বার্সেলোনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টা অনেক বেশি প্রযোজ্য। তবে আমি মনে করি, একজন ভালো কোচকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয় দলের ক্লিনশিট। কারণ, সেক্ষেত্রে নিজেদের প্রাপ্ত সুযোগ থেকে একটি কাজে লাগাতে পারলেই জয় নিশ্চিত। সেই প্রেক্ষিতে এবারের স্পেন দল কিন্তু সত্যিই দারণ ফুটবল খেলছে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত শুধু ক্লিনশিট রাখাই নয়, পাঁচ ম্যাচে মাত্র ছ’বার বিপক্ষ দল তিনকাঠির মধ্যে বল রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই বলতে পারি শুক্রবার আরও একবার দুর্গ অক্ষত রেখেই জয়ের জন্য ঝাঁপাবে পেড্রি-ইয়ামালরা। তবে বেলজিয়ামও ছাড়ার পাত্র নয়।
আট বছর আগে নিজেদের সোনালি সময় পেরিয়ে এসেছে টিনটিনের দেশ। প্রথম দু’ম্যাচে ড্রয়ের পর অনেকেই বলেছিলেন, রুডি গার্সিয়ার প্রশিক্ষণে এই বেলজিয়াম দল অতীতের ছায়া মাত্র। তবে সকলকে ভুল প্রমাণ করে নিজেদের মেলে ধরেছে কেভিন ডি ব্রুইন-লিয়ান্ড্রো ট্রোসার্ডরা। নিউজিল্যান্ড, সেনেগালের পর গত ম্যাচে আয়োজক দেশ আমেরিকাকে উড়িয়ে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করেছে ‘দ্য রেড ডেভিলস’। শেষ তিনটি ম্যাচে ১২বার বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে তারা। তবে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণে ফাটল ধরানো সহজ নয়। সেটা ভালোই জানেন কোচ রুডি গার্সিয়া। তাই ফিল্ড গোলের চেয়েও সেটপিসের উপর বাড়তি জোর দিচ্ছে বেলজিয়াম। বিশেষত ম্যান সিটিতে খেলা ডোকুর উপস্থিতি রুডির হাতে বিকল্প বাড়াবে। মনে রাখতে হবে, এই স্পেন দলের বেশির ভাগ ফুটবলার তরুণ। বিশ্বকাপের আসরে বড় ম্যাচে চাপ নেওয়ার দক্ষতা তাদের কম। সেই দিক থেকে বেলজিয়াম দলে ডি ব্রুইন, কুর্তোয়া, লুকাকুরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তবে স্পেন জানে, কীভাবে কঠিন ম্যাচ সহজে বের করতে হয়।
শুক্রবার ইয়ামালরা জিতলে শেষ চারের লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হতে পারে স্পেন। তবে তার আগে মরক্কোর চ্যালেঞ্জ টপকাতে হবে এমবাপেদের। দু’বছর আগে ইউরোতে ফরাসি দুর্গ তছনছ করেই ফাইনালে পৌঁছেছিল ফুয়েন্তে ব্রিগেড। এবারও সেই আশাতেই বুক বাঁধছে গোটা দেশ। স্পেনে বসে তা ভালোই টের পাচ্ছি। সাধারণ মানুষ থেকে সাংবাদিক, সকলেই চোখে ২০১০ সালের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ