মুম্বই: ভাগ্যিস, মাঠে ছিলেন না বলিউডের বাদশা। থাকলে দেখতেন, নিজের শহরে তাঁর সাধের দল কত খারাপভাবেই না আত্মসমর্পণ করতে পারে! নাইটদের এই হারাকিরিতে হৃদয় রক্তাক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। যেমনটা হল হাজার হাজার কেকেআর সমর্থকের। খেলায় হারজিত থাকে। কিন্তু এরকম হতশ্রী পারফরম্যান্স মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।
ইতিহাস বলছে, কেকেআরের বগি টিম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। গত কয়েক বছরে পরিসংখ্যান কিছুটা বদলাচ্ছিল, যা দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন অনেকেই। কিন্তু ওয়াংখেড়ে নাইটদের কাছে বড়ই অপয়া। এই মাঠেই ২০০৮ সালে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলি ব্রিগেড। সেই আতঙ্ক চেপে বসেছিল মঙ্গলবারও। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওভারের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে যেভাবে উইকেট পড়ছিল, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল দেওয়াল লিখন।
শুরুতেই সুনীল নারিন বোল্ড হন বোল্টের বলে। পরের ওভারে ডি’কককে তুলে নেন দীপক চাহার। কিন্তু তারপর যা ঘটল, তা অবিশ্বাস্যই। আইপিএলের মঞ্চে সাড়া জাগানো আবির্ভাব তরুণ বাঁ-হাতি পেসার অশ্বিনী কুমারের। গতির সঙ্গে বিষাক্ত সুইংয়ে তিনি ধরাশায়ী করলেন কেকেআরের তারকা ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, বাইশ গজে অনেক দিন শাসন করবেন তিনি। কেউ কেউ তো সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, ‘ভবিষ্যতের তারকা পেয়ে গেল ভারতীয় ক্রিকেট।’
প্রশংসা করতেই হবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স স্কাউট টিমের। প্রথমে ভিগনেশ পুথুর, তারপর অশ্বিনী কুমার— তিন ম্যাচেই দুই নতুন প্রতিভার জন্ম দিল তারা। মাত্র ৩০ লাখ টাকায় তেইশ বছরের অশ্বিনীকে দলে নেয় মুম্বই। অভিষেক ম্যাচেই কেকেআরের চার ব্যাটসম্যানকে ডাগ-আউটে ফিরিয়ে সুদে-আসলে পুষিয়ে দিলেন তিনি। লজ্জায় ফেললেন নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্টকে। তাঁর সেরা ডেলিভারি অবশ্যই রাসেলের মিডল স্টাম্প ছিটকে দেওয়া। শাহরুখ খানের বড় প্রিয় ‘দ্রে রাস’ এখন কাগুজে বাঘ। সেটা কিছুতেই অনুধাবন করতে পারছেন না কেকেআর কর্তারা। যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই ভালো।
সব দলই পাওয়ার প্লে’তে রান তোলার চেষ্টা করে। থাকে ঝুঁকিও। কিন্তু দু’উইকেট পতনের পর বড় পার্টনারশিপ গড়ার তাগিদ দেখা গেল না রাহানে, বেঙ্কটেশদের মধ্যে। আসলে উলু বনে মুক্তো ছড়িয়ে লাভ নেই। বেঙ্কটেশ ওভাররেটেড ক্রিকেটার। তাঁর পিছনে ২৩.৭৫ কোটি টাকা ঢালা যুক্তিহীন। তিনি যেভাবে খেলছেন, তাতে মনে হচ্ছে মান্নত থেকে কিং খান টাকার বস্তা নিয়ে আরব সাগরে ঢেলে দিয়েছেন। আর রাহানে হলেন ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ক্যাপ্টেন’। পাকে চক্রে ভগবানও যেমন ভূত হয়, রাহানের অবস্থাও তাই। রিঙ্কু সিং এখন ফিক্সড-ডিপোজিটের মতো ২০২৩-এর পারফরম্যান্সকে (যশ দয়াল পর্বকে) ভাঙিয়ে খাচ্ছেন।
এই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতকেও। ডাগ-আউটে বসে তাঁর কাজ কি? শুধুই হাততালি দেওয়া? এর চাইতে কোনও এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিলে বলে দিত, কঠিন সময়ে কীভাবে ব্যাট করলে লড়াকু স্কোর খাড়া করা যায়। সেই বার্তা পাননি রঘুংবশীরা। অগত্যা যা হওয়ার তাই হল। ১৬.২ ওভারে ১১৬ রানেই গুটিয়ে গেল নাইট রাইডার্স।
জবাবে ব্যাট করতে নামার আগেই জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছিল মুম্বই। শুধু দেখার ছিল কত বড় ব্যবধানে জিততে পারে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। রোহিত শর্মা ও রিকেলটন শুরুটা ভালোই করেন। মনে হচ্ছিল, ম্যাচ শেষ করে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু তা হল না। ১৩ রানে আউট হন রোহিত। যদিও জিততে খুব বেশি বেগ পেতে হল না মুম্বইকে। কারণ, ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকান রিকেলটন। শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন প্রোটিয়া ওপেনার। শেষদিকে নেমে সূর্যকুমার যাদব ছক্কা হাঁকিয়ে নিশ্চিত করেন দলের জয় অপরাজিত ২৭)। ৪৩ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে জয় পায় মুম্বই। এবারের আইপিএলে এটাই হার্দিকদের প্রথম সাফল্য। আর তিন ম্যাচের দু’টিতে হেরে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে কেকেআর।



