


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রায় এক বছর ধরে রাস্তার অবস্থা বেহাল। বর্তমানে তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বড়ো বড়ো গর্তের পাশাপাশি ধুলোর ঝড়ে নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরা। হাওড়া শহরে গঙ্গার গা ঘেঁষে যাওয়া ফোরশোর রোডের দক্ষিণমুখী লেনে অবশেষে কাজ শুরু করল কেএমডিএ। এদিকে, মাত্র ৫০০ মিটার অংশে সংস্কারের কাজ শুরু হতেই দিনভর চরম যানজট রাস্তাজুড়ে। বাধ্য হয়ে ছোট গাড়িগুলিকে জিটি রোড দিয়ে ঘোরানোর চেষ্টা করলেও যানজট সামলাতে গিয়ে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেয়েছে পুলিশ। আর এই যানজটের হাসফাঁস দশা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে একাধিক রুটের টোটো।
হাওড়া স্টেশন কিংবা হাওড়া ময়দানের দিক থেকে শিবপুর হয়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যেতে হলে সব গাড়িকেই ফোরশোর রোড ধরে যেতে হয়। মৌড়িগ্রাম, আন্দুল, আলমপুর, ধূলাগড়গামী প্রায় সব বাসই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। আবার হাওড়া শহরকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছে ফোরশোর রোড। ফলে জি টি রোডের বিকল্প হিসেবে এই রাস্তার গুরুত্ব অনেক। এক বছর ধরে ফোরশোর রোডের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ সম্পূর্ণ বেহাল। গত বর্ষায় দক্ষিণমুখী লেনটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অবশেষে এই লেনের সব থেকে খারাপ অংশ রামকৃষ্ণপুর ঘাট থেকে ৫০০ মিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছে কেএমডিএ। রাস্তার ওই অংশটি বন্ধ থাকায় উত্তরমুখী লেন দিয়েই এখন দু’পাশের যানবাহন চলাচল করছে। একারণেই দিনভর যানজট ফোরশোর রোডে। সব থেকে খারাপ অবস্থা হয়েছে সকালে ও সন্ধ্যার অফিস টাইমে। কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের কথায়, ‘এই যানজটের মধ্যেই শ’য়ে শ’য়ে টোটো ঢুকে পড়ছে। ফলে একবার যানজট শুরু হলে আধ ঘণ্টার নিষ্কৃতি মিলছে না যাত্রীদের।’
এদিন ফোরশোর রোডে যানজট কমাতে ছোট গাড়ি, বাইকগুলিকে রামকৃষ্ণপুর ঘাট মোড় থেকে জি টি রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেয় পুলিশ। ফলে গাড়ির চাপ বাড়ে সদাব্যস্ত জি টি রোডে। যেকারণে এই রাস্তাতেও এক সময়ে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। স্থানীয়দের অনেকেরই প্রশ্ন, ‘৫০০ মিটার রাস্তা খুঁড়তেই এই অবস্থা। পুরো রাস্তা যখন সংস্কার হবে, তখন কী হবে? পুরসভা বা প্রশাসনের উচিত ছিল অনেক আগেই মেরামতির কাজ করা। জি টি রোডের দিকে ডাইভারশন করা হলে যানজট আরও বাড়বে।’ এদিন বিকেলে রামকৃষ্ণপুর ঘাট মোড়ে গিয়ে দেখা গেল, হাওড়া স্টেশন বা উত্তরমুখী লেনে বাস, অটো, লরি, টোটোর ভিড়ে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা যাত্রীদের। যানজট চলে এসেছে প্রায় পুলিশ কমিশনারের বাংলো পর্যন্ত। এদিকে, ওই এলাকায় রয়েছে একটি হাসপাতাল। ফলে রোগী নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সগুলিকে। হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি ট্রাফিক সুজাতা কুমারী বিনাপানি বলেন, ‘রাস্তার কাজের জন্য গাড়িগুলিকে সাময়িক ডাইভারশন করা হচ্ছে। তাতে কিছুক্ষণ যানজট থাকছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’