Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিভ্রান্ত করতে ভিপিএন ব্যবহার, অবশেষে গ্রেপ্তার ভুয়ো কল সেন্টার চক্রের কিংপিন

বারবার ডেরা ও মোবাইল বদল। তার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ভিপিএনের তুখোড় ব্যবহার।

বিভ্রান্ত করতে ভিপিএন ব্যবহার, অবশেষে গ্রেপ্তার ভুয়ো কল সেন্টার চক্রের কিংপিন
  • ২২ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারবার ডেরা ও মোবাইল বদল। তার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ভিপিএনের তুখোড় ব্যবহার। এই কৌশলে গত পাঁচ মাস ধরে সিআইডির ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল ভুয়ো কল সেন্টার চক্রের কিংপিন। আড়ালে থেকে সে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদনও করে। সেই আর্জি বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার রাতে বারাসত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম তন্ময় গায়েন। জালিয়াতির টাকা সে কোথায় রেখেছে, জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, হাড়োয়ার বাসিন্দা তন্ময় বারাসতে একটি বেআইনি কল সেন্টার খোলে। সেখানে বেশ কয়েকজন যুবক-যুবতীকে কাজ দেয়। বিভিন্ন মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার নাম করে এখানকার কর্মীরা ফোন করতেন বিভিন্ন ব্যক্তিকে। ফোনে বলা হতো, সংশ্লিষ্ট মোবাইল সংস্থা টাওয়ার বসানোর জন্য জায়গা খুঁজছে। জমি বা বাড়ি থাকলে দিতে পারেন। প্রস্তাবে কেউ রাজি হলে জমি বা বাড়ির দলিল, ভোটার, আধার চেয়ে নেওয়া হতো। কয়েকদিন পর ফোন করে বলা হতো, জায়গাটি পছন্দ হয়েছে। মোবাইলে লিঙ্ক পঠিয়ে সেখানেই চুক্তি সহ যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সেরে ফেলতে বলা হতো। এই ‘টোপ’ গিলে কেউ লিঙ্ক খুললেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের দখল নিতেন বেআইনি কল সেন্টারের কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যেত অ্যাকাউন্ট। এভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েকজন বারাসত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে ২০২৪-এর নভেম্বরে প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ওই কল সেন্টারে তল্লাশি চালায় পুলিস। বাজেয়াপ্ত করা হয় একাধিক ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী। কিন্তু কল সেন্টারের মালিক তন্ময়কে পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত তন্ময় আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট বা বাড়িতে এই ধরনের কল সেন্টার চালাচ্ছে। এক বা দু’মাস অন্তর অফিস পাল্টাচ্ছে সে। পুলিস জানতে পারছে, টের পেলেই অন্যত্র চলে যাচ্ছিল। ওই অবস্থায় সে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করে। আদালত আর্জি খারিজ করে তাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয় সিআইডিকে। 
তদন্তকারীরা তন্ময়ের একাধিক মোবাইল নম্বরের হদিশ পান। কিন্তু কোনওভাবেই তার টাওয়ার লোকেশন মিলছিল না। বারবার সিম বদলে ফেলছিল সে। ভিপিএন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় সেই সিম বিদেশ থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দেখাতে থাকে। তদন্তকারীরা বুঝে যান, অভিযুক্ত কলকাতার উপকণ্ঠেই কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। কয়েকদিন আগে সিআইডির কাছে খবর আসে, তন্ময় বারাসত আসবে। সেইমতো মঙ্গলবার প্রস্তুত ছিল সিআইডির টিম। আসা মাত্র পাকড়াও করা হয় অভিযুক্তকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ