Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অভিমান, বুকে চেপে প্রস্থান কিং কোহলির, ভেরি স্পেশাল কেরিয়ার, প্রশংসায় ভরালেন শচীন

শচীন তেন্ডুলকরের উত্তরসূরি হিসেবেই একসময় চিহ্নিত ছিলেন বিরাট কোহলি।

অভিমান, বুকে চেপে প্রস্থান কিং কোহলির, ভেরি স্পেশাল কেরিয়ার, প্রশংসায় ভরালেন শচীন
  • ১৩ মে, ২০২৫ ১৬:০৫

মুম্বই: শচীন তেন্ডুলকরের উত্তরসূরি হিসেবেই একসময় চিহ্নিত ছিলেন বিরাট কোহলি। প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে ক্রিকেটপ্রেমীদের আড্ডায় চর্চার বিষয় ছিল একটাই— মাস্টার ব্লাস্টারের রেকর্ড তিনি ভাঙতে পারবেন কি? একরাশ অভিমান নিয়ে সোমবার সকালে টেস্ট ক্রিকেটকে কোহলির বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত সেজন্যই বিষাদগ্রস্ত করে তুলছে ক্রিকেট মহলকে। কীসের তুলনা? শচীন যেখানে টেস্টে ১৫,৯২১ রানের মালিক সেখানে কোহলি যে দশ হাজার রানে পৌঁছনোর আগে থেমে গেলেন! অনেকেই মনে করছেন, কোহলির অবসরের নেপথ্যে ড্রেসিং-রুমের আবহ। বিশেষ করে কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না তাঁর। অবশ্য শুধু কোহলিই নন, রোহিত শর্মাও সদ্য অবসর নিয়েছেন টেস্ট থেকে। স্বয়ং গম্ভীর অবশ্য বিরাটের অবসর নিয়ে গণমাধ্যমে দু’লাইনের পোস্ট করেছেন। সংক্ষিপ্ত ও দায়সারা পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সিংহের মতোই প্যাশন ওর সঙ্গী। চিকস, তোমায় মিস করব।’ 
২০১১ সালে ওয়াংখেড়েতে ওডিআই বিশ্বকাপ জেতার পর শচীনকে পিঠে বসিয়ে ভিকট্রি ল্যাপের পর ভিকে বলেছিলেন, ’২১ বছর ধরে দেশকে বয়ে চলেছে শচীন। এবার ওকে বয়ে চলার সময় এসেছে আমাদের।’ বর্ণময় কেরিয়ারে কোহলি অবশ্য ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকাকে তুলে ধরতে চেষ্টায় ফাঁকি রাখেননি। তবে তারপরও গত কয়েক বছরে টেস্টে আগের মতো সাফল্য আসেনি। তবে তাতে কোহলির অবদান কমছে না। বিদায়বেলায় শচীনের প্রশংসায় সেটাই প্রতিফলিত। 
উত্তরসূরি সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুম্বইকরের মূল্যায়ন, ‘তোমার টেস্ট অবসরের মুহূর্তে মনে পড়ছে ১২ বছর আগের কথা। সেটা ছিল আমার শেষ টেস্ট। তুমি প্রয়াত বাবার ধাগা দিতে চেয়েছিলে। কিন্তু এমন একটা ব্যক্তিগত জিনিস আমি গ্রহণ করতে পারিনি।  তোমার আন্তরিকতা অবশ্য হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। চিরকাল তা মনে থাকবে। তোমাকে দেওয়ার জন্য আমার কাছে কোনও ধাগা নেই। তবে রয়েছে অফুরন্ত শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। এই প্রজন্মকে তুমি ক্রিকেটার হয়ে উঠতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছ। এতেই প্রতিফলিত তোমার উত্তরাধিকার। দুরন্ত টেস্ট কেরিয়ারের মালিক তুমি। রানের বিচারে ভারতীয় ক্রিকেটে তোমার অবদান মাপলে চলবে না। নতুন প্রজন্মকে ক্রিকেটার হওয়ার পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের অনুরাগী করে তুলেছ তুমি। ভেরি স্পেশাল টেস্ট কেরিয়ারের জন্য অভিনন্দন রইল।’ 
শচীনের পোস্টেই প্রমাণিত, দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক কোন পর্যায়ের। অতীতে এমনও দেখা গিয়েছে যে টেকনিকের দুর্বলতা সারিয়ে তুলতে লিটল চ্যাম্পিয়নের দ্বারস্থ হয়েছেন কোহলি। আর সেই সেশনের ফলও মিলেছে। রানে ফিরেছেন তিনি। কোহলির অবসরের জল্পনা গত কয়েকদিন ধরে ডানা মেলতেই ক্রিকেট মহলে চলছিল ফিসফাস। বলাবলি হচ্ছিল, টেস্ট খেলতে অনিচ্ছুক কোহলির মত পরিবর্তন করাতে পারেন একমাত্র শচীনই!

Advertisement

 

বিষণ্ণ ক্রিকেট বিশ্ব

রবি শাস্ত্রী: বিশ্বাসই হচ্ছে না! তুমি হলে এই সময়ের জায়ান্ট। খেলা ও নেতৃত্বের মধ্যে দিয়ে টেস্ট ম্যাচের অসাধারণ দূত হয়ে উঠেছ। দুরন্ত সব স্মৃতির জন্য তোমায় ধন্যবাদ। সারাজীবন তা মনে থাকবে। গো ওয়েল, চ্যাম্প। গড ব্লেজ।

গ্রেগ চ্যাপেল: শচীনের থেকেও অনেক বেশি প্রতিভাবান ভিকে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করা মুখের কথা নয়। দলের মধ্যেও আগ্রাসন সঞ্চার করেছে বিরাট। এক ইঞ্চি জমি না ছাড়ার মানসিকতা ক্রিকেটারদের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে ও।

শুভমান গিল: তোমার সম্পর্কে যাই লিখি না কেন, তা যথেষ্ট নয়। ১৩ বছর বয়স থেকে তোমায় ব্যাট করতে দেখছি। কীভাবে মাঠে একজন এতটা এনার্জি দিতে পার, ভেবে এখনও অবাক হই। একসঙ্গে খেলে উপলব্ধি করেছি যে, আর কারও পক্ষে এটা সম্ভব নয়। টেস্ট ক্রিকেট তোমার কাছে ঠিক কী, তা আমার জানা। আশা করব, তোমার আবেগ ও দায়বদ্ধতা আমরা মেনে চলতে পারব। 

এবি ডি’ভিলিয়ার্স: মহাকাব্যিক টেস্ট কেরিয়ারের জন্য অভিনন্দন। তোমার দৃঢ়সংকল্প ও স্কিল আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তুমি সত্যিকারের কিংবদন্তি।

যুবরাজ সিং: টেস্ট ক্রিকেটই তোমার মধ্যে থেকে লড়াকু সত্তা বের করে আনত। গ্রেটদের মতোই খেলেছো।  হৃদয়ে ছিল জেতার খিদে। গনগনে আগুন সঙ্গী ছিল তোমার। প্রতিটা পদক্ষেপ ছিল গর্বের। 

নভজ্যোৎ সিং সিধু: সর্বকালের সেরা ভারতীয় ক্রিকেটার। কাঁহা পড়ে হো চক্কর মেঁ, কোই নেহি হ্যায় টক্কর মেঁ!

ঋষভ পন্থ: প্রতিবার মাঠে নেমেই উজাড় করে দিয়েছ। সামনের দিনগুলোর জন্য শুভেচ্ছা। 

সম্পর্কিত সংবাদ