Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আইপিএলে টাকা লাগিয়ে ‘ফতুর’, অশান্তির জেরে বঁটির কোপে স্ত্রীকে খুন!

আইপিএলে টাকা লাগিয়ে ‘ফতুর’, অশান্তির জেরে বঁটির কোপে স্ত্রীকে খুন!
  • ১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী। তারউপর আইপিএল-এ বেটিংয়ে টাকা লাগিয়ে ‘ফতুর’ হয়েছিল স্বামী। সেই নিয়ে পারিবারিক অশান্তির জেরে বঁটি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপ মেরে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করল স্বামী। মঙ্গলবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুঁটোপুঁটিতলা এলাকায়। মৃতার নাম শ্রাবণী সরকার(৩৪)। পুলিস রাতেই অভিযুক্ত স্বামী বুদ্ধদেব সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় মৃতার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Advertisement

পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, বুদ্ধদেব সকরার ওই এলাকার আদি বাসিন্দা। তাদের ১৬ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বুদ্ধদেব সেভাবে কোনও কাজ করত না। যখন যেমন কাজ পেত করত। তাই সংসারে অভাব লেগেই থাকত। হঠাৎ করেই কিছু টাকা পাওয়ার লোভে আইপিএল বেটিংয়ে টাকা লাগাত। বেটিংয়ে টাকা লাগানো তার রীতিমতো নেশায় পরিণত হয়েছিল। তাতে প্রচুর টাকা নষ্ট করেছিল বুদ্ধদেব। তিন বছর ধরে সে আইপিএল বেটিংয়ে টাকা লাগাত। গত বছর সে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তাতেও তার শিক্ষা হয়নি। এবছরও অনেক টাকা হেরে যায়। অভিযোগ, বেটিংয়ে টাকা লাগানোর জন্য পরিবারের গয়না বিক্রি পর্যন্ত করেছিল। এছাড়াও বাজারে প্রচুর টাকা ঋণ রয়েছে, যা নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছেন, ঘটনার দিন স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে এনিয়ে তুমুল বচসা হয়। সেই ঝগড়ার জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে। খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে শ্রাবণী সরকারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য গৃহবধূর মৃতদেহ পাঠানো হয় রানাঘাট পুলিস মর্গে। পুলিসের এক কর্তা বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগ দায়ের করে মামলার রুজু করেছি। বেটিংয়ের নেশা ছিল অভিযুক্তের। বাজারে প্রচুর ধারদেনা ছিল বলেও জানা গিয়েছে। বাকি বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আইপিএলের সময় বহু ক্রিকেট বেটিং চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে চলে বেটিং। এর জন্য নির্দিষ্ট বুকিও সক্রিয় থাকে। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও বেটিং চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হন। এই ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছে বলে পুলিস ও স্থানীয়দের দাবি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ