Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

কাঠমাণ্ডুর মেয়র প্রাক্তন র‌্যাপার ‘বালেন’ কি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি পদত্যাগ করেছেন। জনতার রোষ আছড়ে পড়েছে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতার উপরেই। এই অস্থির সময়ে নেপালের হাল ধরবেন কে?

কাঠমাণ্ডুর মেয়র প্রাক্তন র‌্যাপার ‘বালেন’ কি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০৯
Prefer us on Google

কাঠমাণ্ডু: প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি পদত্যাগ করেছেন। জনতার রোষ আছড়ে পড়েছে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতার উপরেই। এই অস্থির সময়ে নেপালের হাল ধরবেন কে? এই পরিস্থিতিতে উঠে এসেছে একটি নাম, কাঠমাণ্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রিধারী, প্রাক্তন র‌্যাপার এই যুবনেতার রাজনীতিতে হাতেখড়ি মাত্র তিন বছর আগে। এহেন বালেন্দ্রকেই  পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী চেয়ে অনলাইনে ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত। প্রথম থেকেই ছাত্র-যুবর দাবিকে সমর্থন করে এসেছেন। ফেসবুক পোস্টে এও লিখেছেন, ‘সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য বিক্ষোভকারীরা ২৮ বছরের বয়সসীমা বেঁধে দিয়েছেন। জেন জির সেই বিক্ষোভে বয়সের কারণেই যোগ দিতে পারিনি। কিন্তু আমি মনে করি, তাঁদের কথা শোনার প্রয়োজন রয়েছে।’ 

Advertisement

চলতি রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন বালেন। তাঁর কথায়, ‘জেন জির এই আন্দোলন সত্যিই স্বতঃস্ফূর্ত। হতে পারে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমি বয়স্ক। তবে নবীন প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চিন্তা-ভাবনা আমি বুঝি। রাজনৈতিক দল, নেতা, সমাজকর্মী, আইনসভার সদস্যরা খুব চালাক। তাঁরা নিজেদের স্বার্থে এই বিক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারেন।’ 
সোমবার স্বজনপোষণ, দুর্নীতি আর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল নেপালি জনতা। তখন থেকেই ভিপিএন ব্যবহার করে সমাজমাধ্যমে বালেন্দ্রর সমর্থনে একাধিক পোস্ট ভিড় করতে থাকে। এক্স হ্যান্ডলে একজন লেখেন, ‘শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের আন্দোলনের পার্থক্য রয়েছে। আমাদের মধ্যে একজন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ ব্যতিরেকে সকলের ভালোর জন্য কাজ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী পদে বালেনকে চাই।’ আরও একজন লেখেন, ‘প্রিয় বালেন, এখনই নেতৃত্ব হাতে তুলে নিন। নেপাল আপনার সঙ্গে রয়েছে। এগিয়ে চলুন।’ 
১৯৯০ সালে জন্ম বালেন্দ্রর। নেপাল থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক হয়ে তিনি ভারতে চলে আসেন। এরপর ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন। সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই নেপালের ‘হিপহপ’ সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। র‌্যাপ সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রায়ষই দেশের দুর্নীতি এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে সরব হন। ২০২২ সালে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাঠমাণ্ডুর মেয়র নির্বাচনে। সেবার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পরাজিত করে ৬১ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ