নয়াদিল্লি ও শ্রীনগর: মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধান। তার মধ্যেই বদলে গেল ভূস্বর্গ কাশ্মীরের গোটা চিত্র। পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য থেকে এখন মৃত্যুপুরী। পর্যটক টানতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছিলেন হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তরাঁ সহ ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীরাই। গ্রীষ্মের মরশুমে মনোরম কাশ্মীরে ধীরে ধীরে বাড়ছিল পর্যটকদের সংখ্যা। এরইমধ্যে অনির্বচনীয় সৌন্দর্য্যে মোড়া বৈসারণ উপত্যকায় ঝরল রক্ত। মঙ্গলবার জঙ্গিদের বীভৎস তাণ্ডবের পর কাতারে কাতারে পর্যটক কাশ্মীর ছাড়তে শুরু করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রমাদ গুনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সকলের মুখেই এক কথা। তাঁরা বলছেন, এখানে আয় রোজগারের বড় ভরসা পর্যটকরাই। অথচ সেই নিরীহ পর্যটকদের উপরই নারকীয় হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা। এই ঘটনায় ব্যবসায় টান তো পড়বেই, একইসঙ্গে কাশ্মীরের মাথাও হেঁট হয়ে গেল। পহেলগাঁও হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাভি হামলার কড়া নিন্দা করে বলেন, ‘যেভাবে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হল এর কোনও ব্যাখ্যা নেই। এই ঘটনা আমাদের লজ্জায় মাথা নীচু করে দিল। কাশ্মীরকে অনেকটা পিছিয়ে দিল।’ বুরজার মতোই হতাশ পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলি। সকলেই বলেছেন, পর্যটন মরশুম চলছে। অথচ পর্যটকরা উপত্যকা ছেড়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় হতাশ পদ্মশ্রী প্রাপক শিল্পী গুলাম রসুল খান। উপত্যকার সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্য কাশ্মীরি সালের কারুকাজের জন্য শিল্পী হিসেবে তিনি সরকারি সম্মানও পেয়েছেন। পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে এই জামাওয়ার শিল্পী বলেন, ‘যারা এখানকার শান্তি নষ্ট করল, তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া উচিত। কাশ্মীরের মানুষ সম্পূর্ণভাবে পর্যটনের উপরই নির্ভরশীল। তাঁদের বেঁচে থাকার, অর্থ সংস্থানের একমাত্র রসদ পর্যটকরাই। তাই মূলচক্রীদের খুঁজে এখনই সামনে নিয়ে আসা হোক। নাহলে সবকিছু যদি শান্ত হয়ে যায়, তাহলে পরে হয়তো আরও বড় কিছু হয়ে যেতে পারে।’ এমনিতেই মঙ্গলবারের হামলার প্রতিবাদে দু’দিন ধরেই কাশ্মীরের রাস্তায় চলছে প্রতিবাদ। একইসঙ্গে বুধবার গোটা উপত্যকায় স্বতঃস্ফূর্ত বন্ধ পালিত হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের পাশে থাকার কথা বলেছেন। তাঁরা বলছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া জবাব চাই। এদিকে বৃহস্পতিবারও কাশ্মীরে ছিল কার্যত বন্ধের পরিস্থিতি। পর্যটকের অভাবে ডাল লেকের শিকারা পাড়েই থেকেছে। দোকান-পাট সহ ব্যবসায়িক সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অনেকেই বলছেন, নিরীহ পর্যটকদের উপর এই হামলার রেশ যে আরও কত দশক কাশ্মীরকে ভোগাবে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



