Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ছাপড়ি থেকে খাপ, অজানা শব্দের মানে জানাতে উদ্যোগ কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের

‘ছাপড়ি’ কাকে বলে বহু মানুষ জানে না। অথচ টিটাগড়, নৈহাটি গেলে দেখা যাবে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোও শব্দটির মানে জানে। ‘লুল্লুরি’ কি? জানেন না তো? দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহরতলি যান, দেখবেন প্রায় সবার মুখে ঘুরছে লুল্লুরি শব্দটি।

ছাপড়ি থেকে খাপ, অজানা শব্দের মানে জানাতে উদ্যোগ কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কল্যাণী: ‘ছাপড়ি’ কাকে বলে বহু মানুষ জানে না। অথচ টিটাগড়, নৈহাটি গেলে দেখা যাবে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেগুলোও শব্দটির মানে জানে। ‘লুল্লুরি’ কি? জানেন না তো? দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহরতলি যান, দেখবেন প্রায় সবার মুখে ঘুরছে লুল্লুরি শব্দটি। 

Advertisement

মোবাইলে হরবখত ঘোরে ‘বাওয়াল’, ‘চুলবুলি’, ‘চুদুরবুদুর’, ‘লুল্লুরি’, ‘খাপ’, ‘ছাপড়ি’, ‘কেনকি’, ‘বম’, ‘কারগিল’। অনেকে এই শব্দগুলির মানে জানেন। আবার অনেকেই জানেন না। এবার না জানাদের জন্য একটি অভিধান বের করতে চলেছেন ভাষাতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস। এই নতুন শব্দগুলি ভাষাতত্ত্বের ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকরা সংগ্রহ করে উৎপত্তির সময়কাল খুঁঝছেন। তারপর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করছেন। গবেষকরা জানান, এগুলি ঢুকছে দৈনন্দিন বাক্যালাপে। এর ফলে ভাষার বাঁকবদল ঘটছে। বাংলা যে পাল্টাচ্ছে তার নেপথ্যে এই শব্দগুলির ভূমিকা খুঁজে দেখা হচ্ছে গবেষণায়। উঠে আসা শব্দ ও তার মানে সংগ্রহ করে নতুন অভিধান তৈরি হতে চলেছে। সুখেনবাবু বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মুখে ঘোরা শব্দ এবং শব্দবন্ধ নিয়ে বিশেষ একটি অভিধান তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’
রাজনৈতিক নেতার মুখে শোনা গিয়েছে ‘চড়াম চড়াম’, ‘গুড়-বাতাসা’, ‘নকুলদানা’ ইত্যাদি। শুনে মানুষ হাসছে। ব্যবহারও করছে। প্রয়োগ চোখে পড়েছে বেসরকারি টিভি, এফএম, সংবাদপত্র, সোশ্যাল মিডিয়ায়। চলচ্চিত্রে ‘কেলানো’ শব্দ আকছার ব্যবহার হচ্ছে। ‘মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’-একসময় চরম জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এগুলি ক্রমশ পরিচিত ও ব্যবহৃত হয়ে উঠছে। কিন্তু এরকম কিছুর অস্তিত্ব বাংলায় ছিল না। সেগুলিই এই গবেষণার বিষয়বস্তু। স্ল্যাং বা গালাগালি বা অন্য মানে নিয়ে বঙ্গে আগেও কাজ হয়েছে। হিমানীশ গোস্বামী শব্দের অন্য অর্থ ব্যবহার করে লিখেছিলেন ‘ধানাইপানাই’। বাংলা গালাগালি নিয়েও চমৎকার লেখা রয়েছে, ‘বাংলা স্ল্যাং সমীক্ষা ও অভিধান’ বইয়ে। তবে তারপরও বাংলা অনেকে বাঁক ঘুরেছে। পাঠকদের বক্তব্য, এবার নয়া অভিধানের প্রয়োজন। কল্যাণীর গবেষণা সে চাহিদাই মেটাতে চলেছে।
সম্প্রতি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ আয়োজন করেছিল ‘প্রয়োগের বাংলা, ব্যবহারের বাংলা’ নিয়ে পাঁচদিনের একটি কর্মশালা। উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল ৮৪ জন গবেষক ও ছাত্র-ছাত্রীর হাতে শংসাপত্র তুলে দিয়ে বলেন, ‘ভাষা নদীর মতো বহমান। প্রয়োগের পার্থক্যের জন্যই বাংলা ভাষা এত সমৃদ্ধ।’
কাকে একটা ‘চুলবুলি’ বলে বাবার হাতে ‘ঠাঁটিয়ে’ থাপ্পর খেয়েছিল স্বপন। ওর বন্ধু দেবা নাকি ‘লুল্লুরি’। তার বন্ধু বাচ্চু আবার পাক্কা একটা ‘ছাপরি’। পাড়ার ‘বম’কে নিয়ে ওদের মধ্যে ‘হেব্বি বাওয়াল’। রোজই নাকি ‘কারগিল’ হচ্ছে। দেখুন তো শব্দগুলির মানে উদ্ধার করতে পারেন কি না? না হলে অভিধানটি বেরনো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ