Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালী প্রতিষ্ঠা করেন বামাখ্যাপার শিষ্য, মনষ্কামনা পূরণে দূরদূরান্ত থেকেও ভিড়

সাধক বামাখ্যাপার প্রধান শিষ্য কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই বাড়ির মন্দিরে। তারপর নিয়ম করে দেবীর পুজো হচ্ছে হাওড়ার ক্ষীরেরতলা গলি কালীবাড়িতে।

কালী প্রতিষ্ঠা করেন বামাখ্যাপার শিষ্য, মনষ্কামনা পূরণে দূরদূরান্ত থেকেও ভিড়
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সাধক বামাখ্যাপার প্রধান শিষ্য কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই বাড়ির মন্দিরে। তারপর নিয়ম করে দেবীর পুজো হচ্ছে হাওড়ার ক্ষীরেরতলা গলি কালীবাড়িতে। মূল পুজোটি হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়। এছাড়া দীপান্বিতা অমাবস্যাতেও দর্শন পেতে ঢল নামে ভক্তদের।

Advertisement

মধ্য হাওড়ার দেশপ্রাণ শাসমল রোডের মুখোপাধ্যায় বাড়ির কালী খুব জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস। শোনা যায়, এ বাড়ির পূর্বপুরুষ অমূল্যধন মুখোপাধ্যায় ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। বর্ধমান রাজার কাছ থেকে পাওয়া এস্টেটের কাজের সূত্রে তাঁকে প্রায়শই তারাপীঠে যেতে হতো। সেখানেই পরিচয় সাধক বামাখ্যাপার প্রধান শিষ্য সাধক তারাখ্যাপার সঙ্গে। তারা নিজেই মুখোপাধ্যায় বাড়িতে গিয়ে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন দেড় হাত কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন। সে নিয়ম মেনেই অক্ষয় তৃতীয়ায় ছাগশিশু বলির মধ্য দিয়ে মূল পুজো করা হয়। এই বাড়ি পরিচিত ক্ষীরেরতলা গলির কালীবাড়ি হিসেবে। বাড়ির মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। ফল, মিষ্টি ছাড়াও দেওয়া হয় মাছ ও পাঁঠার মাংস। অক্ষয় তৃতীয়ার আগের দিন দেবীর অঙ্গরাগ। ডাবের জল, মধু, ঘি, সুগন্ধি, দুধ, সিদ্ধি দিয়ে দেবীকে স্নান করিয়ে অলংকারে সাজানোর নিয়ম। বংশানুক্রমে পুজো করছেন পারিজাত রায়চৌধুরী। অক্ষয় তৃতীয়া বাদেও কৌশিকী অমাবস্যা, মৌনী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে মহা সমারোহে পুজো করা হয়।
হাওড়া ও অম্বিকা কালনায় থাকা এই পরিবারের সিদ্ধেশ্বরী মাতা ঠাকুরানি এস্টেটের অংশ থেকে এখনও অর্থ আসে মুখোপাধ্যায় পরিবারের কোষাগারে। পরিবারের চার শরিক প্রতি চারমাস করে পুজোর দায়িত্ব বহন করে আসছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে শোনা গিয়েছে, মন্দিরের পিছনের অংশে বিরাট জমি ছিল এই পরিবারের নামে। সেই জমি দান করা হয়েছে মন্দিরকে। বামাখ্যাপার প্রধান শিষ্যের হাতে প্রতিষ্ঠিত কালীর দর্শন পেতে আজও দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন ভক্তরা। মনষ্কামনা পূরণে পুজো দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ