নয়াদিল্লি: যতই দিন এগচ্ছে, ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রাকে নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, গতবছর পুরীর জগন্নাথ মন্দির দর্শনে গিয়েছিল জ্যোতি। সেইসময় জগন্নাথ মন্দিরের উপর ড্রোন উড়িয়েছিল সে। মন্দির চত্বরে এধরনের কাজ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তাও কীভাবে জ্যোতি ড্রোন ওড়াল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ড্রোন ওড়ানোর পিছনে ঠিক কী কারণ ছিল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত ভ্লগারকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার জন্য তৎপর হয়েছে ওড়িশা পুলিস। এনিয়ে হরিয়ানা পুলিসের সঙ্গে যোগাযোগের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।
তবে শুধু পুরী নয়। গতবছর এপ্রিলে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর মন্দির দর্শনেও গিয়েছিল জ্যোতি। জ্যোতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ইতিমধ্যেই হরিয়ানায় পৌঁছেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিসের একটি দল। উজ্জয়িনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নীতেশ ভার্গব জানান, এপর্যন্ত তেমন সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে মহাকালেশ্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। প্রতিদিন প্রচুর পুণ্যার্থী আসেন এখানে। কোনওরকম নাশকতার চক্রান্ত করা হয়েছিল কি না, সেটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে জ্যোতিকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।
শুধু জ্যোতি নয়। সূত্রে খবর, পশ্চিমের দেশের বহু মহিলা ইনফ্লুয়েন্সারকেও টার্গেট করেছে পাকিস্তান। তালিকায় রয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার নেটপ্রভাবীরা। তাঁদের ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের আথিতেয়তা, নারীদের নিরাপত্তা সহ একাধিক বিষয় তুলে ধরা হয়। এই ইনফ্লুয়েন্সাররা এমনভাবে বর্ণনা করেন, যেন পাকিস্তানের মতো নিরাপদ দেশ পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। মূল লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের ভালো ছবি তুলে ধরা। জানা গিয়েছে, মোটা টাকা সহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের দিয়ে এই কাজ করায় পাকিস্তানের একাধিক সংস্থা। পরে অনেকে চরবৃত্তির কাজেও জড়িয়ে পড়েন। ইতিমধ্যেই জ্যোতির ডায়েরি উদ্ধার ,পাকিস্তানে বিয়ে করার ইচ্ছে সহ নানা খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক হিসার পুলিস। সমস্ত সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার উদ্দেশে পুলিসের বার্তা, এই তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। ইতিমধ্যেই একাধিক ভিত্তিহীন খবর, ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকে অতিরঞ্জিত করে নিজেদের মতো গল্প বানিয়ে সম্প্রচার করছেন। অবিলম্বে তাদের সতর্ক হতে হবে। এই ধরনের খবর পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে। জ্যোতির কাছে তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথি ছিল না বলেও জানিয়েছে হিসার পুলিস।