কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা; ‘শোলে, শোলে, শোলে। ইভনিং শো, নাইট শো, হোল নাইট, হোল নাইট... বড় পর্দায় গব্বরের শয়তানি, জয়-বীরুর ফাইটিং, ঠাকুরসাবের বদলা-বসন্তির নাচ-শুধুমাত্র সিমলা স্পোর্টিং ক্লাবে। হোল নাইট, হোল নাইট, হোল নাইট’— সিমলা স্পোর্টিংয়ের পুজোর ক্যাচলাইন কি এবার এমনই হতে চলেছে?
এই বছর সিমলার পুজোর থিম, ‘শোলে’। কালজয়ী সিনেমাটির ৫০ বছরে পা দিয়েছে। ফিল্মটিকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই থিম তৈরি করছে সিমলা। তার মানে, পুজোর সময় স্বামী বিবেকানন্দের পাড়ায় আসছে জয়-বীরু-ঠাকুর-গব্বর। জানেন কি, এই গব্বর কীভাবে তৈরি? শোলের স্ক্রিপ্ট রাইটার সেলিম খানের বাবা আবদুল রশিদ খান ছিলেন পুলিস অফিসার। শিশুপুত্র সেলিমকে গব্বর নামে এক ডাকাতের গল্প বলেছিলেন তিনি। সেই ডাকাত ভয়ঙ্কর সব কুকুর পুষত আর পুলিসদের ধরে ধরে নাক কেটে শাস্তি দিত। গব্বর সিং সেই ডাকাতেরই ছায়াছবি। মণ্ডপে শোনা যাবে, ঢিসুম-ঢিসুম, ঢিচক্যাঁউ-ঢিচক্যাঁউ, অব তেরা কেয়া হোগা কালিয়া ইত্যাদি।
বিবেকানন্দর গুরু ছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। তিনি বলে গিয়েছেন, ‘থিয়েটারে লোকশিক্ষে হয়’। তা সিনেমা শোলেও লোকশিক্ষে তো কম দেয়নি কিছু। পুজোর সাধারণ সম্পাদক প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শোলে শুধুমাত্র বিনোদনমূলক অবয়ব ছিল না। প্রতিটা ভূমিকা, কাহিনি, দৃশ্যপটের মধ্যে সামাজিক সচেতনতার প্রতিচ্ছবিও বার্তার মেলবন্ধনের ইতিহাস ছিল। সেগুলিই তুলে ধরা হবে।’
উত্তর কলকাতায় বিবেকানন্দ রোডের দিকে থেকে গিরিশ পার্কের দিকে যেতে বাঁ হাতে যে গলিটি ঢুকেছে, সেখানে ৮৮ বছর ধরে পুজো হচ্ছে সিমলা স্পোর্টিং ক্লাবের। নামকরা ক্লাব। ততোধিক নামকরা পুজো এদের। বড় রাস্তা থেকে ঢুকে গলির বিশ-পঁচিশ ফুট দূরে প্যান্ডেলটি হয়। পুরো গলিটিই সাজবে শোলের থিমে। ঢোকার মুখেই সেই বিখ্যাত কয়েনটি। যে কয়েনের দু’পিঠে একই ছবি। সেই পয়সার বড় আকারের রেপ্লিকা। সেখান দিয়ে ঢুকে গলির দু’পাশে জয়-বীরুর কাট-আউট। বন্দুক হাতে বা বাইকে চড়ে যাচ্ছে দু’জনে। ফ্যাকাশে মিলিটারি পোশাক পরে গব্বরের আস্ফালন। সিনেমায় আমজাদ খানের জন্য এই পোশাক কেনা হয়েছিল মুম্বইয়ের চোরবাজার থেকে। আর তা পুরনো করার জন্য সর্বক্ষণ পরে থাকতেন গব্বররূপী আমজাদ। এছাড়া দেখা যাবে, চোখ বিস্ফারিত করে পোজ দিয়েছেন ঠাকুরসাব। বোতল ভাঙা কাচের উপর নাচতে ব্যস্ত বাসন্তি, জীবন পণ করে দৌড়চ্ছে ধন্নো। রাধার (জয়া ভাদুড়ি) ছোঁয়ায় নিভে যাচ্ছে লণ্ঠনের ম্রিয়মাণ আলো। এখানেই শেষ নয়, রয়েছে ঠাকুরসাবের সেই বিখ্যাত ধাতুর স্টাড বসানো নাগরা জুতো। গব্বরের ডেরা। আর ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘মেহবুবা, মেহবুবা’। আর অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ, দুর্গার পিছনের অংশে টাঙানো বড় পর্দা। সেখানে নন স্টপ শোলে। সারারাত ধরে। সবমিলিয়ে যাকে বলে ‘টোটাল ধামাকা’।