নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফের বিতর্কের কেন্দ্রে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ডে কলেজ এবং ল’ কলেজ। উচ্ছৃঙ্খলভাবে রং খেলা, সাংবাদিকদের গায়ে লঙ্কার গুঁড়ো মিশ্রিত রং এবং জল ছেটানো, ক্যামেরার ক্ষতি করার চেষ্টা— অভিযোগের আঙুল যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী কলেজের পড়ুয়া এবং প্রাক্তনীদের একাংশের দিকে। আবার এদিনই ল’ কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে বৈঠক করতে এসে দু’দল ছাত্রের বিক্ষোভের মাঝে পড়ে যান তৃণমূলের সাংসদ মালা রায়। তাঁকে কার্যত ঘেরাওয়ের অভিযোগ ওঠে পড়ুয়াদের একাংশের বিরুদ্ধে। যদিও, ঘেরাওয়ের কথা অস্বীকার করেছেন সাংসদ।
বুধবারের ঘটনার জেরে তিনদিনের জন্য ডে কলেজ বন্ধ করে দিয়েছেন অধ্যক্ষ পঙ্কজকুমার রায়। ল’ কলেজের এক ছাত্র এদিনই হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মামলাটি ওঠার সম্ভাবনা। মামলাকারীর দাবি, কলেজে সিসিটিভি বাড়ানো, বহিরাগত ঠেকানোর মতো ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিন বহিরাগতরা এসে ল’ কলেজের ছাত্রীদের গায়ে রং দিয়েছে বলেও তাঁর অভিযোগ। পুলিসের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগও আদালতে জানানো হয়েছে।
এদিন মালা রায় বলেন, ‘ছাত্র নির্বাচন হচ্ছে না বলে পড়ুয়াদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছি। তারা বিভিন্ন প্রস্তাব দেবে সমিতিকে। বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব নিয়েই বৈঠক ছিল। দু’দলই ছাত্র। তারা একে অপরের দিকে বহিরাগত স্লোগান দিচ্ছিল। আমাকে উদ্দেশ করে তারা কিছু বলেনি।’ এদিকে, পঙ্কজ রায়ের বক্তব্য, মালা রায় সাড়ে ১১টায় বৈঠক ডেকেছিলেন। সেই সময় ডে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা চলে এসেছিলেন। তাই একটি বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি আরও সকালে বৈঠকটি করতে পারতেন। সাব্বির আলি নামে এক বহিরাগত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। শাসকদলের কাছে আবেদন, তাঁকে সংগঠন থেকে সাসপেন্ড করা হোক। এদিন রং খেলা বা বসন্তোৎসব, কোনওকিছুরই অনুমতি ছিল না। সাংবাদিকদের যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা নিন্দনীয়। বাধ্য হয়েই তিনদিন কলেজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।
এদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসেও বসন্তোৎসব পালন করে টিএমসিপির একটি গোষ্ঠী। তাতে বিপুল ছাত্র সমাগম হয়। তবে, আলিপুর ক্যাম্পাসে সেমেস্টার পরীক্ষা চলাকালীন বিরাট সাউন্ড বক্স বাজিয়ে গান চালানো হয়। এ নিয়ে উপাচার্য শান্তা দত্তকে অভিযোগ জানিয়েছে এসএফআই।