নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান ও সংবাদদাতা, কাটোয়া: প্রথমবার সাফল্য এসেছিল মাধ্যমিকে। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষাতেই কাটোয়ার দেবদত্তা মাজি রাজ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছিলেন। উচ্চ মাধ্যমিকে দখল করেন ষষ্ঠ স্থান। এরকম সাফল্য আসার পর আবেগে, উচ্ছ্বাসে অনেকেরই মাথা ঘুরে যায়। তাতে পরের পরীক্ষাগুলিতে সেরাদের তালিকায় তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেবদত্তা তাঁদের মধ্যে পড়েন না। তিনি ব্যতিক্রমী। তাই তাঁর সাফল্যের ধারাবাহিকতার গ্রাফ ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী।
সোমবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স (জেইই) অ্যাডভান্সড-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৪২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন দিল্লি জোনের রঞ্জিৎ গুপ্তা। আর দেবদত্তা? সাফল্যের আকাশ ছুঁয়েছেন তিনিও। শুধু রাজ্য নয়, মেয়েদের মধ্যে দেশের সেরা হয়েছেন কাটোয়ার দেবদত্তা। এই পরীক্ষায় তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক ১৬। আইআইটি খড়্গপুর জোনের টপার। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স-হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘দেশে মহিলাদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার। দেবদত্তা বাংলাকে আবার গর্বিত করেছ। তোমাকে শুভেচ্ছা জানাই।’ সাফল্যের চূড়ায় থাকা দেবদত্তা বলছেন, ‘এমন সাফল্যে খুশি না হয়ে থাকা যায়? বেঙ্গালুরু আইআইটিতে পড়াশোনা করে রোবোটিক সায়েন্স নিয়ে গবেষণা করতে চাই।’ দেবদত্তার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। তিনি বলেন, ‘দেবদত্তাকে দেখে জেলার অন্যান্য মেয়েরাও উৎসাহিত হবে।’
দেবদত্তার মা শেলি দাঁ কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরানি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বাবা জয়ন্তকুমার মাজি আসানসোল বিবি কলেজের অধ্যাপক। শেলিদেবী বলেন, মেয়ে সাফল্য ধরে রাখায় গর্ব অনুভব করছি। আগামী দিনে ও আরও এগিয়ে যাক, এটাই চাইব। দেবদত্তা পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময় বেহালায় সুর তোলেন। শার্লক হোমসের গোয়েন্দা গল্প তাঁর প্রিয়।