নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অহেতুক বিলম্ব আর বরদাস্ত করবে না নবান্ন। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর পুলিস ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল ভেরিফিকেশন হতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। এতদিন এই কাজ যত তাড়তিাড়ি সম্ভব করে দেওয়ার নির্দেশ থাকত। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হতো না। এবার সেটাই করল রাজ্য সরকার। পরীক্ষায় কোনও চাকরিপ্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন—এই খবব তাঁকে সরকারিভাবে জানানোর ৩০ দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া। এমনই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। চিঠি দিয়ে সব দপ্তরকে সতর্ক করেছেন তিনি। এর অন্যথা হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার ফল বেরনোর পর নিয়োগকারী সংস্থা যোগ্য প্রার্থীদের নামের তালিকা তৈরি করে। এর পরের ধাপে যেসব প্রক্রিয়া আছে, সেটা শেষ করতে অনেক সময় লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত পুলিস ও মেডিক্যাল ভেরিফিকেশন অনেকদিন ধরে চলছে।
এটা কোনওভাবেই কাম্য নয়। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেরি যেমন হয়, তেমনই যেখানে লোকবলের অভাবে কাজ ব্যাহত হচ্ছে, সেখানে সমস্যা চলতেই থাকে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বেশ কয়েকটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিস ও মেডিক্যাল ভেরিফিকেশনের জন্য যেসব কাজ রয়েছে, তা ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতেই হবে। এই দু’টি রিপোর্ট চলে আসার পর সংশ্লিষ্ট চাকরিপ্রার্থীকে প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট দপ্তর বা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যোগদানের নির্দেশ দিতে হবে।
জেলা ও দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষা হয়ে গেলেও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের কাজে যোগদান করতে লেগে যাচ্ছে অনেক সময়। কারণ, পুলিস ও মেডিক্যাল ভেরিফিকেশন করতে কোথাও তিন মাস, কোথাও ছয় মাস লেগে যাচ্ছে। এমন প্রবণতা বহুদিন ধরেই চলছে বলে অভিযোগ। মুখ্যসচিবের এই চিঠির পর পরিস্থিতির বদল হবে বলে আশা করছেন আধিকারিকরা।



