ভোপাল: চাকরি চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে মায়ের। সেই ‘শংসাপত্র’ জমা দিয়ে শিক্ষাদপ্তরে চাকরি পেয়েছিলেন ব্রিজেশ কোল। কিন্তু তাঁর ‘ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন’ করতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের! মা হিসেবে যাঁর নাম দিয়েছিলেন ব্রিজেশ, তেমন কেউ কখনও শিক্ষাদপ্তরে চাকরিই করেননি। ৫০ হাজার ‘ভুতুড়ে’ সরকারি কর্মীর পর ডাবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে সামনে এল নতুন এক নিয়োগ কেলেঙ্কারি। এবার শিক্ষাদপ্তরে বড়সড় নিয়োগ কেলেঙ্কারি। কেবল ব্রিজেশ নন, এমনভাবে ভুয়ো নথি জমা দিয়ে শিক্ষাদপ্তরে চাকরি পেয়েছেন কমপক্ষে আরও পাঁচজন। কোথায়? মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায়। বিজেপিশাসিত এই রাজ্যে কয়েকদিন আগে ৫০ হাজার সরকারি কর্মীর হদিশ মিলছিল না। তাতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল দেশজুড়ে। যদিও মধ্যপ্রদেশ সরকারের সাফাই, কোনও ভুয়ো কর্মীর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রেওয়ার তিওনথা এলাকার পারাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা ব্রিজেশ। তাঁর মা বেলারানি কোল সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। চাকরি চলাকালীন তিনি মারা যান বলেই দাবি করেন ব্রিজেশ। যদিও বেলারানি নামক কোনও সহকারী শিক্ষিকার খোঁজ পাওয়া যায়নি। এমনকী, ব্রিজেশের মায়ের নামও বেলারানি নয়। তা সত্ত্বেও তিনি ‘ভুয়ো’ নথি জোগাড় করে একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পিয়নের চাকরি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি বেতন প্রক্রিয়ার সময় তাঁর নথি যাচাই করতে গিয়ে কিছু অসঙ্গতি পান স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি বিষয়টি শিক্ষাদপ্তরের নজরে আনেন। তারপরই সামনে আসে ব্রিজেশের কেলেঙ্কারি। গোটা ঘটনার জেরে জেলার এডুকেশন অফিসার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটি আরও পাঁচটি দুর্নীতির হদিশ পেয়েছে। জাল নথি জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁরা। জেলা কালেক্টর প্রতিভা পাল জানিয়েছেন, ব্রিজেশ যে নথি জমা দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ যাচাই করা হয়েছিল। পুলিসি ভেরিফিকেশনও হয়। নথিগুলি পুরোপুরি আসল বলেই মনে হয়েছিল। তবে আরও সতর্ক হয়ে দেখার পরই স্পষ্ট হয়, কাগজগুলি জাল।
বাবা বা মা চাকরি চলাকালীন মৃত্যু হয়েছিল, এমন ৩৬ জনকে গত বছর রেওয়া জেলায় নিয়োগ করেছিল প্রশাসন। ভালোভাবে যাচাইয়ের পর পাঁচজনের নথি জাল বলে জানা গিয়েছে। এক কেরানি সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাঁদের মদতেই এই দুর্নীতি বলে অনুমান পুলিসের।