Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২৭ জন গ্ৰাহকের বিরুদ্ধে এফআইআর, জরিমানা ৭৫ লক্ষ টাকা, কমছে কারচুপি

২৭ জন গ্ৰাহকের বিরুদ্ধে এফআইআর, জরিমানা ৭৫ লক্ষ টাকা, কমছে কারচুপি
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্বপ্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলায় অভিনব কায়দায় বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। বাড়িতে এসি, ফ্রিজ, সাবমার্সিবল,ইলেকট্রিক গেজেট থাকা সত্ত্বেও বিল আসছে সামান্য। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার কর্মীরা লাগাতার অভিযান চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ২৭ জন গ্ৰাহকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। ৭৫ লক্ষ টাকার উপর জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান ও কড়া পদক্ষেপে হাতেনাতে মিলছে সাফল্য।
Advertisement
জেলার বিদ্যুৎ চুরির তালিকায়শহরের বিভিন্ন পেশার মানুষ নাম রয়েছেন। আর্থিকভাবে যাঁদের বেশিরভাগই সম্পন্ন। ধনী ব্যবসায়ী,পুরসভার কর্মী, ব্লক অফিসের অস্থায়ী কর্মী থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের নামতালিকায় রয়েছে। কারচুপি করে চুরি চলছিল। শহরেরবিভিন্ন এলাকায় গত তিনমাসে সন্দেহজনক পাঁচশো বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে কেউ ঘরের বিদ্যুতের সংযোগ নিয়েছেন। কেউ আবার বাড়ির মিটারেই কারচুপি করেছেন।এক একজন গ্ৰাহকের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকা থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মামলা হতেই তড়িঘড়ি জরিমানার টাকা মেটানো শুরু হয়। দপ্তর সূত্রের খবর, জরিমানার বেশিরভাগ টাকা আদায় হয়ে গিয়েছে।বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, জেলায় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছিল, তার থেকে আদায় কম হচ্ছিল। তাতেই বিদ্যুতে লোকসানের ছবিটা সামনে উঠে আসে। তিনটিউপায়ে দপ্তরের আর্থিক ক্ষতি হয়। প্রথমত বিদ্যুৎ চুরি হলে সেই বিল আদায় করা যায়না। গ্ৰাহকরা বিদ্যুতের বিল জমা না দিলে ক্ষতি হয়।জেলায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ক্ষতি ছিল ৩৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে ক্ষতি নেমেছেপ্রায় সাড়ে ৩৫ শতাংশে। পঁচিশ সালে ক্ষতির পরিমাণ ২০শতাংশের নীচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বিদ্যুৎ চুরি ঠেকাতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। দপ্তরের উচ্চ আধিকারিক ছাড়াও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, টেকনিক্যাল কর্মীরা টিমে রয়েছেন। অভিযানের জেরে একেরপরএক চুরির পর্দা ফাঁস হচ্ছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চলছিল। বেশকিছু বাসিন্দার বাড়ি থেকে তিনমাসে বিদ্যুতের বিলচার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আসছিল। যদিও আর্থিক সম্পন্ন এইসব বাড়ির সদস্যরা বাড়িতে একাধিক এসি, ফ্রিজ, গিজার, ইলেকট্রিক গেজেট ব্যবহার করেন। অভিনব কৌশলে বিদ্যুতের ব্যবহারে কারচুপি চলছিল। শহরের বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীরার নামও বিদ্যুৎ চুরির তালিকায় রয়েছে।
জেলার বিদ্যুৎ বণ্টন দপ্তরের আধিকারিক মৌমিতা মাঝি বলেন, জেলার শহর ও গ্ৰামীণ এলাকাতেও ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলা গ্ৰামীণ এলাকার থেকে শহর এলাকায় বিদ্যুৎ চুরির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। থানায় এফআইআরকরা হচ্ছে। বিদ্যুতে ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ওপরসর্বাধিক নজর দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ