নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: আদিবাসী ও জনজাতি শিশুদের সিকল সেল রোগে মৃত্যু কমাতে উদ্যোগী হয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। বর্তমানে সিকল সেল রোগে ২০-৩০ শতাংশ আদিবাসী ও জনজাতি নবজাতকের মৃত্যু হয়। রোগ চিহ্নিতকরণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগে মৃত্যুর হার কমানো যায়। ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সিকল সেল রোগ চিহ্নিতকরণের পরীক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্যকে দিশা দেখাচ্ছে। আদিবাসী ও জনজাতি এলাকায় চলছে প্রচার।
ঝাড়গ্রাম জেলার সিএমওএইচ ভুবনচন্দ্র হাঁসদা বলেন, ঝাড়গ্রামের প্রতিটি ব্লকে নবজাতকদের সিকল সেল রোগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদিবাসী ও জনজাতি এলাকার শিশুদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় রোগটি নিয়ে সচেতন করতে প্রচার চালানো হচ্ছে। ভারতবর্ষের সাতটি কেন্দ্রে ২০১৯-২৪ সালে সিকল সেল ডিজিজ নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছিল। মুম্বইয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইমিউনোহেমাটোলজির অধীনে এই কাজ হয়। ৬৩ হাজার ৫৩৬ জন নবজাতক শিশুর পরীক্ষা করা হয়। সমীক্ষায় দেখা যায় ৫৭ শতাংশ শিশু আদিবাসী মা-বাবার সন্তান। সমীক্ষায় আরও উঠে আসে ৭ হাজার ২৭৫ জন শিশু সিকল জিনের বাহক। এইসব শিশুরা বড় হওয়ার পর বিবাহ করলে তাদের সন্তানরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে । ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর এরপরেই ব্লকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা শুরু করে। জেলাতেও আদিবাসী ও জনজাতি এলাকার শিশুদের মধ্যে সিকল সেল ডিজিজের প্রকোপের বিষয়টি সামনে আসে। সিকল সেল বংশগত রক্তের রোগ। রোগটিকে সিকল সেল অ্যানিমিয়াও বলা হয়। সাধারণত লোহিত রক্তকণিকাগুলি ডিস্ক-আকৃতির ও নমনীয় হয়। রক্তনালীর ভিতর যে কারণে সহজেই চলাচল করতে পারে। সিকেল সেল রোগে, লোহিত রক্তকণিকাগুলির আকৃতি জিন মিউটেশনের কারণে অর্ধচন্দ্রাকার আকৃতির বা কাস্তের মতো হয়। লোহিত রক্তকণিকা সহজে রক্তনালীর মধ্যে বাঁকতে বা নড়াচড়া করতে পারে না। শরীরের বাকি অংশে রক্ত প্রবাহকে বাধা দেয়। রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, স্ট্রোক, ফুসফুসের সমস্যা, চোখের সমস্যা, সংক্রমণ ও কিডনির রোগের মতো অন্যান্য গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমবস্থায় রোগ ধরা পড়লে প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন, প্রোফোল্যাক্সিস, ফলিক অ্যাসিড ব্যবহার করে রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও অন্যান্য কার্যকলাপও করা সম্ভব হয়। বাবা ও মা সিকল সেলের বাহক হলে সন্তানরা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে সিকল সেল রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। আদিবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এই রোগ নিয়ে প্রচার বাড়ানো হয়েছে। বাবা-মায়েদের সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে ব্লকের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে। বাবা ও মায়েরা শিশুদের নিয়ে এসে পরীক্ষাও করছেন। ২৪ -২৫ বর্ষে নবজাতক শিশুদের সিকল সেল রোগের পরীক্ষার সংখ্যায় রাজ্যের মধ্যে আমরা এক নম্বরে আছি। ইতিমধ্যেই সিকল সেল ডিজিজে আক্রান্ত ২১ নবজাতককে চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। চিকিৎসা শুরু না করলে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যেত।