নয়াদিল্লি: সাত সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির পালাম এলাকার একটি চারতলা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তিন নাবালিকা সহ মোট ন’জনের। চিকিৎসাধীন আরও তিন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের অভিযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষাবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বাড়িতে দিনের পর দিন চলছিল একাধিক ব্যবসা। ৩১টি ইঞ্জিন ব্যবহার করেও আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকলকে। ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনায় জেলাশাসকের নজরদারিতে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।
দমকল সূত্রে খবর, বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ রাম চক বাজারের ওই বাড়িতে আগুন লাগার খবর আসে। ভবনটির মালিক রাজেন্দ্র কাশ্যপ নামে এক ব্যবসায়ী। বেসমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর ও প্রথম তলায় পোশাক ও প্রসাধনীর শো-রুম রয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। বাড়ির অন্য দুই তলায় থাকতেন রাজেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা। নীচের তলার পোশাকের দোকানেই প্রথম আগুন লাগে বলে জানা যাচ্ছে। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির অন্যান্য অংশেও। ঘটনায় কাশ্যপ পরিবারের মোট ন’জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ৭০ বছরের বৃদ্ধা থেকে শুরু করে তিন নাবালিকাও। ২৫ শতাংশ দ্বগ্ধ অবস্থায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভরতি রয়েছে এক যুবক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতিতেই মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ মিনিট কাজ করেনি দমকলের হাইড্রলিক ল্যাডার। ফলে বাড়ির উপরের দু’টি তলায় আটকে থাকা সদস্যদের উদ্ধার করা যায়নি। আগুন নেভানোর ক্ষেত্রেও দমকল যথেষ্ট তৎপর ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দিল্লির অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষাবিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওই চারতলা ভবনটিতে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, কাপড়ের মতো দাহ্যবস্তু। একাধিক দোকান-শোরুম থাকলেও বাড়িতে ঢোকা ও বের হওয়ার রাস্তা ছিল একটাই। সুরক্ষাবিধি মানা হয়নি বাড়ির নীচে থাকা মিটার বক্স সহ অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও। কেন এতদিন বিষয়টি দমকল ও অন্যান্য দপ্তরগুলির নজর এড়িয়ে গেল? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক দলও।



