Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

আন্তর্জাতিক স্নো আর্ট প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জয় জম্মু ও কাশ্মীরের জহুরের

আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকের জয়জয়কার। বারামুলার বাসিন্দা জহুর দিন লোনের হাত ধরে আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জিতল ভারত।

আন্তর্জাতিক স্নো আর্ট প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জয় জম্মু ও কাশ্মীরের জহুরের
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকের জয়জয়কার। বারামুলার বাসিন্দা জহুর দিন লোনের হাত ধরে আন্তর্জাতিক তুষার ভাস্কর্য প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ জিতল ভারত। ২০২৬ সালে ৩৫তম ইন্টারন্যাশনাল স্নো স্কাল্পচার চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছিল আমেরিকার কলোরাডোর ব্রেকেনরিজে। ভারতের হয়ে প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৩৭ বছরের জহুর। তাঁকে যথাযথ সঙ্গ দেন পুলওয়ামার সুহেল মহম্মদ খান এবং উত্তরপ্রদেশের মৃদুল উপাধ্যায় সহ অনেকে।

Advertisement

জহুরদের লড়াই মোটেও সহজ ছিল না। ব্রেকেনরিজে মাইনাস ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাত-দিন পরিশ্রম করে তৈরি করে বরফের এক অসাধারণ ভাস্কর্য। সেটির নাম দিয়েছিলেন, ‘কর্ন—দ্য আল্টিমেট ডোমেস্টিকেটর’। আর তাতেই আসে সাফল্য। এই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়া স্বর্ণপদক এবং আমেরিকা রৌপ্যপদক জিতেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা জহুরের উত্থানের পথ ছিল বেশ কঠিন। দিল্লির জামিয়া-মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফাইন আর্টসের উপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তারপর থেকে শীতকালে গোটা কাশ্মীর যখন কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকত, তখন জহুরের সময় কাটত বরফের সঙ্গে। এই সময়টা গোটা উপত্যকা তুষারের সাদা চাদরে ঢেকে থাকে। কয়েক ইঞ্চি পুরু বরফ জমে যায়। সেই বরফেই জহুর তৈরি করতেন একের পর এক ভাস্কর্য। ২০১৬ সালে তিনি প্রথমবার আমেরিকার এই প্রতিযোগিতার কথা জানতে পারেন। ২০১৭ সালে তিনি স্পিরিট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। এরপর ২০২৫ সালেও তাঁর নেতৃত্বে ব্রোঞ্জ জিতেছিল ভারত। এবছরও সাফল্য ধরে রেখেছে তাঁর টিম।  জহুরের কথায়, ‘উপত্যকায় বরফের ভাস্কর্য নিয়ে বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। গুলমার্গ, সোনমার্গ পহেলগাঁওয়ের মতো স্থানে ভবিষ্যতে স্নো আর্টের গ্লোবাল হাব তৈরি করা যেতে পারে। আমি মনে করি, কাশ্মীরি যুবকদের সেই যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু পরিকাঠামোর অভাবে তাঁরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

সম্পর্কিত সংবাদ